‘আমাকে কেউ অপহরণ করেনি, স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বিয়ে করেছি’
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় পুলিশ কন্যাকে অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে সংসার পেতেছে বলে পুলিশের তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে মেয়েটির বাবা পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদ দাবি করেছেন, তার নাবালক মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদমদীঘি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তিনি একজন পুলিশ সদস্য হওয়ার পরেও থানায় পুলিশি সেবা পেতে বিভিন্ন হয়রানি ও অনিয়মের স্বীকার হচ্ছেন। তবে কথিত অপহৃত মেয়েটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে বলেছেন, কেউ তাকে অপহরণ করেনি। স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বিয়ে করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) লাইভে এসে তিনি একথা বলেন ।
এদিকে, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র ও ট্রাফিক) মো: আতোয়ার রহমান বলেছেন ওই তরুণী অপহরণ ও মামলা না নেয়ার বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে এ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। মেয়েটিকে কেউ অপহরণ করেনি। ঘটনাটি আদৌ সত্য নয়। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে- গত চলতি বছরের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারি সকাল ৮ টার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি থানার কনস্টেবল মোঃ রানা মাসুদের মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোনাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে মোঃ শহিদ হোসেন (১৮)সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়। আদমদিঘী থানার এসআই মোঃ বাবুল আক্তার মামলাটি তদন্তকালে ওই তরুণীকে উদ্ধারপূর্বক আদালতে তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে তার বাবার জিম্মায় দেন। আদালতের ২২ ধারার জবানবন্দিতে ওই তরুণী বলেন যে, আসামি শহিদ হোসেনের সাথে তার ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সেজন্য তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহিদের সাথে গিয়ে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করতে থাকেন। কিন্তু মেয়েটির বয়স ১৭ বছর হওয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষার মতামতের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তশেষে আসামি শহিদ হোসেন (১৮) এর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে ওই তরুণী তাসনিয়া রানা তামান্না গত ১ মে সকাল ৭টার দিকে ফের আসামি শহিদ হোসেনের সাথে চলে গেলে তার বাবা পুলিশ সদস্য মোঃ রানা মাসুদ আদালতে পিটিশন মূলে অভিযোগ দায়ের করলে তা রুজু করা হয় এবং অভিযোগটি বগুড়া জেলা ডিবির অধীনে তদন্তাধীন আছে এবং মেয়েটিকে উদ্ধারসহ আসামিকে গ্রেফতারের পবরর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য তাসনিয়া রানা তামান্না (১৭) তার নিজ নামীয় ফেসবুক একাউন্ট থেকে লাইভে এসে বলেছেন, আমার নাম মিস তাসনিয়া রানা তামান্না। আমার নামে কিডন্যাপিং ও অপহরণের যে মামলাটি দেওয়া হয়েছে এটি পুরাটাই মিথ্যা এবং ভূল বানোয়াট। ইতিমধ্যেই আপনারা দেখছেন যে আমার বাবা মোঃ রানা মাসুদ একজন পুলিশ কনস্টেবল । পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে আমার একটা দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিলো ৪ বছরের। আমার হাজবেন্ডের নাম মোঃ শহিদ হোসেন। কিন্তু আমার বাবা আমাদের ফ্যামিলির মানুষজন এটা মেনে নিচ্ছে না। তারা আমার হাজবেন্ডের নামে পোস্টার ছাপাচ্ছে। মানে সব মিথ্যা। মানে আমার হাজবেন্ড আমাকে অপহরণ করছে, এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। এর আগেও আমি চলে এসেছিলাম। তারপর আমার শশুর-শাশুড়ীকে মারধর করে মানে আমাকে জোড় করে এখান থেকে নিয়ে যায়। মানে আমার শশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে আদমদিঘী থানার ওসি মো: কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, এটি অপহরণের কোন ঘটনা নয়, প্রেমের টানে স্বেচ্ছায় প্রেমিকের হাত ধরে নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা। ফেসবুকে লাইভে এসে মেয়েটি বলেছে তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় ওই ছেলেটির সাথে গিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। ওসি আরো বলেন, মেয়েটির বাবা আদমদিঘী থানার একজন কনস্টেবল। কিন্তু তিনি গড়হাজির। নিয়মিত ডিউটি করেন না।
ওসি আরো বলেন,এ বিষয়ে আদমদীঘি থানায় মামলা না নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। তাকে কেউ হয়রানি করেনি। তার এই অভিযোগ মিথ্যা। গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এদিকে, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র ওসি ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে মেয়েটি স্বেচ্ছায় ওই ছেলের সাথে চলে গিয়ে বিয়ে করেছে। এটি কোন অপহরণের ঘটনা নয়। এর আগেও দুইবার ওই ছেলের সাথে পালিয়েছিল। ডিবি তাকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে দিয়েছিল। মেয়েটি তৃতীয়বারের মত আবার চলে গেছে। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী মেয়েটির বর্তমান বয়স ১৭ বছর ৮ মাস। আর ৪ মাস গেলেই তার ১৮ বছর পূর্ণ হবে। তাকে উদ্ধারের জন্য ডিবির অভিযান চলমান রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171309