রোদ হামলায় বিপর্যস্ত জনজীবন, সহসাই বৃষ্টির দেখা মিলছে না

রোদ হামলায় বিপর্যস্ত জনজীবন, সহসাই বৃষ্টির দেখা মিলছে না

স্টাফ রিপোর্টার : রোদের হামলায় বিপর্যস্ত জনজীবন। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কংক্রিটের এই শহর যেনো রূপ নেয় উত্তপ্ত মরুভূমিতে। দীর্ঘদিন ধরে বইছে তাপপ্রবাহ। নেই দেখা বৃষ্টির। সহসাই এর দেখা মিলবে, এমন আশার বাণীও শোনাতে পারেনি আবহাওয়া দফতর। ঘরে বাইরে কোথাও রেহাই মিলছে না।

আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর অবস্থা চরমে উঠেছে। বিদ্যুৎ ও তাপদাহের দু:সহ পরিস্থিতি থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। আরও কমপক্ষে পাঁচদিন তীব্র তাপে পুড়বে দেশ। এই সময়ের আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনাতে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বগুড়াতে গতকাল তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৩৭ ডিগ্রীতে।

এদিকে অব্যাহত রোদ হামলা  ও ভ্যাপসা গরমে মানুষ ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন না।  নিতান্ত প্রয়োজনে  যারা বের হচ্ছেন তারাও খুব বেশি সময় বাইরে ঠিকতে পারছেন না। ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই আগুন রাঙ্গা চোখ মেলছে সূর্য। তা অব্যাহত থাকছে সন্ধ্যার অন্ধকারের মধ্য দিয়ে। প্রচন্ড গা ঘামা গরমে দিন তো বটেই রাতেও শান্তি এবং স্বস্তি মিলছেনা।

তেতে থাকছে বিছানা, ট্যাপের পানি, আসবাবপত্রসহ বাইরের সড়কগুলোও। রোদের তীব্রতাই সড়ক ও মহাসড়কের পিচ গলে যানবাহনের চাকায় আটকে যাচ্ছে। এতে করে  বেক্য়াদায় পরছেন চালকরা। একসাথে মৌসুমী ফল পেকে যাওয়ায় তা বাজারজাত নিয়ে আশঙ্কায় আছেন বাগান মালিকরা। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হিমসিম খাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক।

এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালকসহ শ্রমিকরা। তীব্র গরমে রাস্তাঘাটে জনসমাগম কম হওয়ায় কারণে যেমন তার কর্মঘণ্টা কমে গিয়েছে তেমনি আয় রোজগারে ভাটা পড়ছে, সেই সাথে তারা স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছেন। আবাহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের শুরু।

আর জুনের শুরু থেকেই বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করে। তাই এ মাসে বৃষ্টি হয় যথেষ্ট। বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরে এ মাসে। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের চলতি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, এ বছর এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে।

এরই  মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও পক্ষ্মীপুর জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলা নিয়ে ৪০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামীতে তা আরও কয়েকটি জেলায় বিস্তৃত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে মাসজুড়ে দুই থেকে তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে তাকে অতি-তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171081