পঞ্চগড়ে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

পঞ্চগড়ে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে পানিতে ডুবে দুই ভাইবোনসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পঞ্চগড় সদরে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাইবোন আসিফ (১১) ও সাথী আক্তার (৯) এবং তেঁতুলিয়ায় নদীতে ডুবে মুন্নাফ (১৪) নামে  এক কিশোর মারা গেছে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ সোমবার (১ জুন) বেলা ১১ টায় নামাজে জানাজা শেষে কেকুপাড়া কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে শায়িত করা হয়। মৃতরা একই এলাকার মৃত আইজুল ইসলাম নেন্দর ছেলে ও মেয়ে। তারা স্থানীয় একটি মাদরাসাতে (মক্তব) পড়াশোনা করতো। চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

চেয়ারম্যান জানান, আসিফ ও সাথী দিনমজুর মা আছিয়া খাতুনের কাছে থাকতো। গতকাল রোববার সকালে সন্তানদের বাসায় রেখে কাজে গিয়েছিলেন আছিয়া খাতুন। পরে সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে ছেলেমেয়েকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রাও তাদের সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে স্থানীয়রা রাতে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে আসিফের মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে। পরে  পুকুরে নেমে আরও খোঁজাখুঁজি চালালে পুকুরের তলানি থেকে সাথীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মরদেহ বাসায় নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ মৃতদের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এদিকে স্থানীয়দের ধারণা পুকুরপাড়ে থাকা আম গাছে আম পাড়তে গিয়ে তারা পানিতে পড়ে যেতে পারে।  সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলায় ডাহুক নদীতে গোসল করতে নেমে মুন্নাফ (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার রওশনপুর এলাকার বালাবাড়ি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্নাফ ওই এলাকার তাজিমুল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে কয়েকজন বন্ধুর সাথে ডাহুক নদীতে গোসল করতে যায় মুন্নাফ। গোসলের এক পর্যায়ে সাঁতার না জানার কারণে নদীর গভীর গর্তে পড়ে সে তলিয়ে যায়। তার সাথে থাকা বন্ধুরা বিষয়টি টের পেয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে অচেতন অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170907