বগুড়া সিটির প্রশাসক ও মেয়র হতে প্রচারণায় অর্ধ ডজন নেতা

বগুড়া সিটির প্রশাসক ও মেয়র হতে প্রচারণায় অর্ধ ডজন নেতা

রাহাত রিটু : বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসক ও মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বগুড়া বিএনপি ও যুবদলের হাফ ডজনের বেশি নেতা। এই নেতারা নিজ মুখে না বললেও তাদের কর্মীরা ফেসবুক, ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে নেতাদের মনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করছেন নিজেদের ভাষায়।

দলের সিনিয়র নেতারা ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে প্রচার না চালালেও মূল্যায়ন হবে এমন আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে জুনিয়র নেতারা পরোক্ষভাবে জোর প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি‘র নেতারা নিজ মুখে না বললেও তাদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে বলছেন।

বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রথম মেয়র এড. একেএম মাহবুবর রহমান অনেক আগেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এমনকি সিটির মেয়র হলে তিনি কী কী করবেন এমন কথাও জাতীয় নির্বাচনের আগে এই প্রতিবেদকের কাছে বলেছেন।

সিটির মেয়র হতে আগ্রহী এমন নেতাদের মধ্যে বিশেষ করে যাদের নাম আসছেন তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম খায়রুল বাশার, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বগুড়া-৭ এলাকার সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রার্থী হবেন না, এমন আভাস দিয়ে লিখেছেন ‘আমার অনেক শুভাকাঙ্খীরা ফেসবুকে সিটির মেয়র হিসেবে আমাকে চাচ্ছেন। দয়া করে এটা লিখবেন না। বগুড়া শহরের অনেকঅভিজ্ঞ ও উদীয়মান তরুন নেতারা আছেন,যারা আশাবাদী ও তাদের প্রাপ্যতা আছে।

অপরদিকে সিনিয়র নেতাদের মেয়র বা সিটির প্রশাসক হওয়ার মৌন ইচ্ছে থাকলেও তারা প্রকাশ করছেন না। তারা অনুসারীদের দিয়ে প্যানা ফেস্টুন টানাতেও নিষেধ করেছেন। তারা চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি কেএম খায়রুল বাশার জানান, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা অবস্থায় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কাজ এখন পর্যন্ত করেননি।

তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভিপি থাকা অবস্থায় ছাত্রদের জন্য কাজ করেছেন। মেয়র পদে মনোনয়ন পেলে বা প্রশাসক হলে বগুড়াবাসীর জন্য কাজ করবেন। তিনি বলেন, তার কাছে দলের চেয়াম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা মাথা পেতে নিবেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানান, তিনি পৌরসভার প্রশাসক বা মেয়র হতে আগ্রহী হলেও সব কিছু নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের উপর।

তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা মেনে নিবেন। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, আজ পর্যন্ত দলের কোন সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি। এবারও বাইরে যাবেন না। তিনি বলেন, শহর বিএনপির সভাপতি হওয়ায় ২১টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সাথে তার জানাশোনা রয়েছে। সেই হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেলে ভালোভাবে বিজয়ী হতে পারবেন।

বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম সিটির প্রশাসক বা মেয়র হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে তিনি বলেন সব সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যানের। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তাই মেনে নিবেন। তিনি বলেন, দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারনে সিটির মানুষ তাকে ভালোভাবে গ্রহন করেছে।

তাই যদি সুযোগ পান তবে কাজ করতে চান। উল্লেখ্য গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া পৌরসভা চত্বরে নবসৃষ্ট সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166144