কুক-জাদুতে জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড

কুক-জাদুতে জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ড

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে অ্যালিস্টার কুক যে এতকিছু পাবেন, তা হয়ত নিজেও ভাবেননি!

নিজের অবসরের বিবৃতিতে কুক বলেছিলেন, তার আর কিছু দেওয়ার নেই, ‘‘ট্যাংকে ফুয়েল শেষ’’। কিন্তু তলায় পড়ে থাকা ‘‘ফুয়েল’’ দিয়েও কুক কতটা দৌড়াতে পারেন, তা দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। অসাধারণ, অনন্য, অনবদ্য। ভারতের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন কুক। তার সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে ইংল্যান্ড। ভারত আরেকটি বড় পরাজয়ের অপেক্ষায়।

৪০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৪২৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। ভারতকে তারা ছুঁড়ে দেয় ৪৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্য। ওভালে চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীরা ৩ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৫৮ রান। ৪০৬ রানে পিছিয়ে তারা। হাতে আছে মাত্র ৭ উইকেট।


৪৬ রানে দিন শুরু কুকের। ৭১ রানে প্রথম ইনিংসে আউট হওয়া কুক এবার বেশ সাবধানী। ধীর গতিতে রান তুলছিলেন। পাশাপাশি শট খেলছিলেন দেখেশুনে। ১২৭ বলে তুলে নেন ফিফটি। অপরপ্রান্তে জো রুট স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করে দ্রুত রান তোলেন। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে কুক পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে। রবীন্দ্র জাদেজার বলে স্কয়ার কাট করেন কুক। এক রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন। কিন্তু শর্ট থার্ডম্যান থেকে বুমরাহর ওভারথ্রোতে আরো চার রান পেয়ে যান । ৯৬ থেকে কুক পৌঁছে যান ১০১ রানে।

ক্যারিয়ারের ৩৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি। করতালির বৃষ্টিতে মুখরিত পুরো ওভাল। দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিলেন দেশটির সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকাকে। ড্রেসিং রুমে শুরু হয় উৎসব। সতীর্থদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় সিক্ত বাঁহাতি ওপেনার। অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে ২০০৬ সালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন কুক। শেষটাও রাঙালেন তিনি। আর শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে গড়েছেন দারুণ রেকর্ড।
 


ক্যারিয়ারের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করা মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হলেন কুক। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রেজি ডাফ, বিল পন্সফোর্ড, গ্রেগ চ্যাপেল ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। বিরতির পর হনুমা বিহারীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১৪৭ রানে ফেরেন কুক। এ ইনিংসের মধ্য দিয়ে কুক উঠে এসেছেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার পঞ্চম স্থানে। ১২৪৭২ রান নিয়ে কুক এখন পঞ্চম স্থানে। কুক ছাড়িয়ে গেছেন শ্রীলঙ্কান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারাকে। টেস্টে সাঙ্গাকারার রান ১২৪০০।

কুকের পাশাপাশি সেঞ্চুরির স্বাদ পান জো রুট। ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১২৫ রান। এ ছাড়া জনি বেয়ারস্টো ১৮, বেন স্টোকস ৩৭, স্যাম কুরান ২১ ও আদিল রশিদ ২০ রান করেন। রানের খাতা খুলতে পারেননি জস বাটলার। ভারতের হয়ে বল হাতে ৩টি করে উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা ও হনুমা বিহারী।
 


৪৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। ২ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। জেমস অ্যান্ডারসনের তৃতীয় ওভারে শিখর ধাওয়ান (১) ও চেতেশ্বর পূজারা (০) আউট হন। স্টুয়ার্ট ব্রডের করা চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বিরাট কোহলি। গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। দিনের শেষ প্রান্তে আর কোনো উইকেট হারায়নি ভারত। লোকেশ রাহুল ৪৬ ও রাহানে ১০ রানে অপাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

অকল্পনীয় কিছু না হলে ভারত আরেকটি লজ্জার অপেক্ষায়। ভারতের বিপক্ষে প্রথম চার টেস্টে একটি ফিফটিও ছিল না কুকের। ওভাল টেস্ট পুরোটাই কুক-শো। তার আলো ছড়ানো পারফরম্যান্সে ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার এক যুগের অবিস্মরণীয় যাত্রা।