হাতিরঝিলের পাশে নতুন ‘হাতিরঝিল’, একনেকে প্রকল্প

হাতিরঝিলের পাশে নতুন ‘হাতিরঝিল’, একনেকে প্রকল্প

রাজধানী ঢাকার নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক ‘হাতিরঝিল’। আর হাতিরঝিলের পাশেই রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী-বারিধারায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প’।

হাতিরঝিলের মতো এ প্রকল্পে থাকবে ব্রিজ, ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। প্রকল্পের আওতায় গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, শাহজাদপুর ও নিকেতন এলাকায় নয়টি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০০ ফুট।

শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ৪১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। হাতিরঝিলের আদলেই গড়ে তোলা হবে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক। এ কারণেই সময় ও ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) শেরে বাংলানগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

রাজউক সূত্র জানায়, মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এবারের সংশোধিত ডিপিপি’তে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে ২০২২ সাল পর্যন্ত।

তবে নতুন পরিকল্পনায় ৮৬ দশমিক ৪২ একরের পরিবর্তে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ৮০ দশমিক ১০ একর। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। লেকের পাড়ের জমি কেউ যাতে নিজের বলে দাবি না করেন সেই পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, হাতিরঝিল প্রকল্পের কোল ঘেঁষে অবৈধ দখল থেকে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উদ্ধার, লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং পানির গুণগত মান রক্ষাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের চারদিকের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে লেকের পরিবেশের উন্নয়ন করা হবে।

নতুন ‘হাতিরঝিললেকের ৯টি স্থানে হাতিরঝিলের মতোই নান্দনিক সেতু ও সেগুলোর ওপরে চারটি ওভারপাস তৈরি করা হবে। এর মধ্যে গুলশান ও বাড্ডার মধ্যে একটি এবং গুলশান-২ থেকে বারিধারা যেতে একটি সেতু নির্মাণ ছাড়াও নিকেতনে বিদ্যমান সেতুটি ভেঙে বড় সেতু তৈরি করা হবে। এছাড়া, শাহজাদপুরের ঝিলপাড়ে একটি, বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি, গুলশান-১ নম্বরের কাছে একটি, পুলিশ প্লাজা থেকে নিকেতন এবং বনানী থেকে গুলশান-২ নম্বরে যেতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প এলাকায় ২৪ হাজার ৬২২ দশমিক ১৬ মিটার রানিং মিটার ওয়াকওয়ে, ২ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ মিটার ওয়াকওয়ে এবং ১১ হাজার ৬৪ মিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে দেড় হাজার রানিং মিটার তীর সংরক্ষণ, ৬৯ হাজার ৬১ বর্গমিটার টার্ফিং ও ২ হাজার ৪৮০ মিটার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণসহ ৭৫০টি পিট ও তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।

২ দশমিক ১০ একর আয়তনের পার্ক, দুই হাজার মিটার ওয়াল, ২২ হাজার ১১৮ রানিং মিটার আরসিসি পাইপ স্থাপন ও পরামর্শকসেবা নিয়োগ দেওয়া হবে। লেকের চারপাশে সাধারণ মানুষের হাঁটা-চলার ব্যবস্থা থাকবে ২৪ হাজার ৬২২ দশমিক ১৬ রানিং মিটারজুড়ে।এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুসারে তিনটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও বাড্ডা এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনারও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আমিনুর রহমান বলেন, প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আসছে। মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের কারণেই এতো বেশি ব্যয় বাড়ছে। তবে ২০২২ সালের মধ্যেই আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। হাতিরঝিলের পাশেই হবে আরও একটি হাতিরঝিল। আশা করছি, এবার বাড়ানো সময় ও ব্যয়ের মধ্যে আমরা লেকের উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবো। হাতিরঝিল ৩শ’ একর ভূমি নিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। এ প্রকল্পও ৩শ’ একর ভূমি নিয়ে বাস্তবায়িত হবে। হাতিরঝিলের থেকে কোনো অংশে কম নয় এ প্রকল্প। আমি বলতে পারি হাতিরঝিলের চেয়েও এ প্রকল্প আরও নান্দনিক হবে।