হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা মানুষ। উপজেলার ৮৫ ভাগ গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা হচ্ছে এই হাসপাতাটি। হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জামাদী থাকলেও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসা সরঞ্জামাদী ব্যবহার না হওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পথে। হরিপুর উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা।

 এর মধ্যে ১০ জন (জুনিকণ) বিশেষজ্ঞসহ ১১ জন বিভিন্ন পর্যায়ের মেডিকেল অফিসার এর অনুমদিত পদ রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য, ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ৩জন মেডিক্যাল অফিসার। ৩জন চিকিৎসক দিয়েই উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা চলছে। মেডিসিন সার্জারী, অ্যানেস্থেসিয়া, নাক-কান-গোলা, শিশু ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিদিন শতশত লোক চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হাসপতালটিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৭৫জন কর্মচারী মধ্যে আছেন মাত্র ৪০জন। ২ জন ডাক্তারসহ মোট ৫ জন জনবল থাকার নিয়ম থাকলেও আছে মাত্র ১ জন। ১জনকে দিয়েই চলছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চিকিৎসা সেবা। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১ জন সহকারী সার্জন ও ১জন     

উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার থাকার কথা থাকলে শুধুমাত্র ভাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রয়েছে ১জন করে উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার।
চিকিৎসা নিতে আসা ভূক্তভোগী রোগীরা অভিযেগ করে বলেন দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা ও ডাক্তার না পেয়ে হতাশায় বাড়ি ফিরে যেতে হয়। গ্রাম অঞ্চলের অনেকেই আর্থিক অভাবের কারণে বাইরে চিকিৎসা না নিতে পেরে গ্রামের হাতুরি ডাক্তারের নিকট বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আবার অনেকে চিকিৎসা সেবা না নিতে পেরে মারাও যাচ্ছে। হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সামাদ চৌধুরী ডাক্তার সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গতমাসে ভিডিও কনফ্রান্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মহা-পরিচালকের কাছে ডাক্তার সংকটের বিষয়টি জানানো হয়। তারপর প্রতি মাসেই চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়।