সিলেটে মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা

সিলেটে মা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১২টার দিকে নগরীর মিরাবাজারস্থ খাড়পাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার মিতালী ১৫/জে নম্বর বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় ৫ বছরের একটি শিশুকে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মরদেহ দু’টি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। মৃতরা হলেন, রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপম (১৬)। আর উদ্ধার করা শিশুটি রোকেয়ার মেয়ে রাইসা বেগম (৫)। মৃত রোকেয়া বেগম বারুতখানা নিবাসী প্রবাসী হেলাল আহমদের স্ত্রী ও একজন পার্লার ব্যবসায়ী এবং মৃত রূপম এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

জানা যায়, রোকেয়া বেগম তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে খাড়পাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। এদিকে তার স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি তার নিজ বাড়িতেই থাকতেন।

এ ব্যাপারে মৃত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তিনি তার বোনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় রোববার বোনের বাসায় আসেন। বোনকে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তিনি উপরতলায় মালিক সালমান হোসেনকে খবর দেন। পরে মালিকের কাছে থাকা একটি চাবি দিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকেই দেখেন এক বিছানায় তার বোন রোকেয়া বেগম ও অন্য বিছানায় তার ভাগ্নে রূপমের লাশ পড়ে আছে। পরে তিনি পুলিশকে খরর দিলে পুলিশ এসে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, মিরাবাজার খাঁর পাড়ায় মা-ছেলেকে ব্যবসায়িক কিংবা পূর্ব শত্রুতার কারণে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলেই এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। রোকেয়া বেগমের গলাসহ শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর ছেলে রোকনকেও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তার গলায় আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, মেয়ে রাইসাকেও তারা সম্ভবত মারার চেষ্টা করে পরে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। জীবিত উদ্ধার করা রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় বলে জানান তিনি।