সরকারকে রক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : বিএনপি

সরকারকে রক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : বিএনপি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে, এই আইনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সরকারকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করেছেন। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য এই আইন নয়। এটা করাই হয়েছে তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য। এর পরিণতি শুভ হবে না। আমরা এই আইন মানি না। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে বিএনপির উদোগে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’-শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের এই আইন (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) আমরা মানি না। আমরা এই সরকারের কোনো আইন মানি না।

কারণ যে সংসদে আইন পাস হয়, সেই সংসদের কোনো বৈধতা নেই। এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, অবৈধ একটা সংসদ। তিনি আরো বলেন, আপনি (সরকার) আইনটা নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত করেননি। এটা একটা প্রতারক সরকার। কয়েকদিন আগেই এডিটরদের সঙ্গে বসে কথা দিলেন যে, আইনের যে ধারাগুলো আছে আপত্তিবিষয়ক- তা আমরা আলোচনা করে পুনঃবিবেচনা করার চেষ্টা করবো। উনি (প্রধানমন্ত্রী) তো বিদেশ থেকে এসে বলে ফেললেন- না না, যেটা আছে ঠিক আছে। যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের জন্য। আমরা ঘরপোঁড়া গরু তো। বিএনপি মহাসচিব বলেন,  এই আইন কালো আরো কালো। এই আইনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সরকারকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করেছেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের, ক্ষোভের ও হতাশ হবার কথা। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে-যিনি আপনাদের রক্ষাকর্তা সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্ত করুন। তিনিই পারেন আপনাদের ও জাতিকে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে। এছাড়া কোনো উপায় নেই আপনাদের। তাই এখনো বলছি- তাকে মুক্ত করুন, কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে একটি নির্বাচন হবে সেই আলোচনা করুন- যেখানে জনগণ তাদের মতামত দিতে পারবে এবং তাদের পছন্দমত একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কালো আইন প্রণয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হতাশ হবেন না।

আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত, জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছি। অবশ্য আমরা ঐক্যবদ্ধ করার কাজটি করার আগেই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। আজকে প্রতিটি বৃত্ত, কর্ণার থেকে আওয়াজ আসছে-সবাই রুখে দাঁড়ান। এই যে জগদ্দল পাথর চেপে বসেছে তাকে সরান। এই দুঃশাসন থেকে মুক্তির একটাই মাত্র পথ- জনগণের ঐক্য। জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করে তাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান স্বৈরশাসক ফ্যাসিস্ট সরকারের নিরাপত্তার জন্য এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটা সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণের নয়। এই আইন করাই হয়েছে তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য। এর পরিণতি শুভ হবে না। বিএনপিপন্থী পেশাজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে একটা জঘন্যতম কালো আইন। সাপ্তাহিক হলিডের সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন বলেন, আমি মনে করি- এই আইন স্বাধীন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএফইউজে’র একাংশের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, রুহুল আলম চৌধুরী, বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশের খবরের উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহউদ্দিন, ইনকিলাবের রেজাউর রহমান সোহাগ, মেহেদি হাসান পলাশ, ইনডিপেন্ডেট টেলিভিশনের আশীষ সৈকত, আমার দেশ পত্রিকার সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহেদ চৌধুরী, কলামিস্ট হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, রেডিও টুডের ইমামুল হক শামীম, শীর্ষ নিউজের একরামুল হক, দৈনিক সমকালের লোটন একরাম, বিএফইউজে’র একাংশের এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র একাংশের কাদের গনি চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের ইলিয়াস খান, এসএ টিভির ইলিয়াস হোসেন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাঈদ আহমেদ খান, বিএনপির সাংগঠিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভায় যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফগানিস্তান, প্যালেস্টাইন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী প্রমুখ নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।