বধূ সাজা হলো না নীলার

শ্রীমঙ্গলে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় মা ও মেয়ে

শ্রীমঙ্গলে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় মা ও মেয়ে

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : আর মাত্র কটা’দিন পরেই মেহেদি হাতে দিয়ে নববধূ সাজার কথা ছিল নীলার। পরিবারের অন্দরমহলে সবাই ব্যস্ত ছিলেন আনন্দঘন একটি আয়োজনের। শেষ হয়েছে বিয়ের কেনাকাটাও। লাল শাড়ি, গহনা, চুরি, আলতা সবই কেনা হয়েছে। অপেক্ষা মাত্র কয়টা দিনের। বিপুল ও নীলা। তারা দুজনই সাত বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসেন। ভালোবাসার সূত্র ধরে তাদের ঘর বাধার কথা ছিল। ইতিমধ্যে তাদের সাংসারিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সময়ক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরার এক ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ার কথা সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে। কথা ছিল স্বপ্নের সংসার সাজানোর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান বিপুল ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক সম্পন্ন করা সামিনা নূর নীলার (২৫) সাথে। গত বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া গতিতে চলা এনা বাস তাদের সংসারের স্বপ্ন ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেয়। কেড়ে নেয় মা ও মেয়ের প্রাণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলায় এনা পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদের পানিতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় নীলার সংসারের স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। নীলার আরেক বোন চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। পরিবারসহ ঢাকাতেই ছিলেন তিনি। বিয়ের সময় অসুস্থ বাবাকে নিয়ে যাতে কোন ঝামেলায় পড়তে না হয়- সেজন্য চেক-আপের জন্য সবাই ঢাকায় যান। বাবার চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজ শেষে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে এনা পরিবহনের একটি বাসে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। এদিকে নীলার ও তার মার মৃত্যুর খবরে শ্রীমঙ্গলের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। সন্ধ্যার পর মরদেহ আসলে এলাকায় স্তব্ধতা নেমে আসে, অঝোরে কাঁদতে থাকেন প্রতিবেশীরা। ভারতে চিকিৎসাধীন নীলার বড় বোন লিজা ফিরে আসার পর গত বৃহস্পতিবার বাদ এ’শা শ্রীমঙ্গল কেন্দ্রীয় থানা মসজিদে প্রথম ও রাত সোয়া ১০টায় উত্তর ভাড়াউড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শহরের হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন। পরে মাদ্রাসা কবরস্থানে মা ও মেয়েকে পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।