শরীরের কোথায় তিল থাকলে কি হয়?

শরীরের কোথায় তিল থাকলে কি হয়?

শরীরের কোনো বিশেষ অংশে তিল থাকলে আপনার সৌন্দর্য যেনো বৃদ্ধি পায় অনেকটাই। এ তিল শুধু শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তা নয়। প্রাচীন সমুদ্র শাস্ত্রে তিল দেখে ভাগ্য নির্ধারণের পদ্ধতি বর্ণনা করা রয়েছে। যদিও অনেকেই এসব কুসংস্কার বলে মনে করেন।

তিলতত্ত্ব অনুযায়ী শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম তিল হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটা নাকি শুভ, আবার কারও ক্ষেত্রে নাকি অশুভ। তিল নিয়ে যারা চর্চা করেন তারা বলেন, এ তাৎপর্য নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপর। সেগুলো হলো- তিলের আয়তন, রং, কেশময়তা ও আকার।

অর্থাৎ চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তিলের ফলাফল। তিল খুব বেশী গাঢ় রংয়ের হলে ফল অশুভ। তিলের ওপর লোম বেশী হলে লক্ষণ অশুভ। স্থানভেদে এসব তিলের তাৎপর্য পাল্টে যায়।

তিল নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাস কী বলে দেখুন:

গাল: ডান গালে তিল সৌভাগ্যের প্রতীক। বিবাহিত জীবনে এরা খুব সুখী হয়। অপরদিকে কোনো নারীর বাঁ গালে তিল থাকলে দাম্পত্য জীবন নিরানন্দে কাটে। এদের কারও কারও কাছে সাফল্য ধরা দেয় ঠিকই, কিন্তু তা বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর। ততদিনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অনেক দূর চলে যায়।

নাক: নাকে তিল থাকলে সে মানুষ খুবই পরিশ্রমী ও ভাল বন্ধু হয়ে থাকেন। তাদের আত্মসম্মানবোধ প্রবল।

ঠোঁট: এমন মানুষরা জীবনে সবসময় সামনের দিকে তাকাতে পছন্দ করেন। আর ঠোঁটে তিল থাকলে সে মানুষ কথা বলতে ও খেতে বেশ ভালবাসেন। তবে খাওয়া-দাওয়া একটু রয়েসয়েই করা ভাল। তাতে ভোগান্তি কম হবে।

বক্ষ: বক্ষযুগলে তিল থাকার অর্থ আপনি খুব ভাল মা হবেন। আপনার সন্তানের জীবন সুখের হবে।

হাত: হাতে যাদের তিল রয়েছে তারা খুবই পরিশ্রমী ও দক্ষ হয়ে থাকতেন। যে কোনো কাজে পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেন।

চিবুক: চিবুকের যে কোনোদিকে তিল থাকা অতি সৌভাগ্যের লক্ষণ। চিবুকে তিলধারীরা খুব সহজে জনপ্রিয়তা পায়। রাজনীতিতে তাদের শক্ত অবস্থান হয়। পাশাপাশি তারা আর্থিক সৌভাগ্যবান হন। তারা প্রেমিক মনের হন। তবে অতিরঞ্জিত হওয়ার কারণে প্রেমিক-প্রেমিকার দূরত্ব বাড়ে।

কান: ডান কানে তিলধারীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন। বিশেষ করে পিতা-মাতার প্রতি একনিষ্ঠ হন। বাঁ কানে তিল দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নির্দেশ করে।

চোখ: ডান চোখের ভেতরে কিংবা আশপাশে তিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধি-বিবেচনা বোঝায়। তারা আবার কখনো কখনো নিষ্ঠুরও হন। তবে বৈষয়িক কর্মকাণ্ডে সফল হন। বাঁ চোখে তিলধারীকে সাধারণত কর্ম ও ব্যক্তিজীবনে দুর্ভোগে পড়েন। বা চোখে তিলের কারণে দাম্পত্যে সন্দেহ বাড়তে পারে। শেষ বয়সে স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে।

কাঁধ: ডান-বাঁ, যে কাঁধেই তিল থাকুক তা কঠোর পরিশ্রমের নির্দেশনা দেয়। ডান কাঁধে তিল থাকলে পরিশ্রমে সাফল্যের দেখা মেলে। কিন্তু বাঁ কাঁধের তিল কিছুটা দুর্ভাগ্যেরও ইংগিত দেয়।

গলা: গলায় তিল সৌভাগ্যের নির্দেশনা দেয়। ডান দিকে থাকলে এর পূর্ণ কার্যকারিতা দেখা যায়; গলার বাঁ দিকে থাকলেও কখনো কখনো সম্পদহানি ঘটে। বৈবাহিক জীবনে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। পুরুষের গলায় তিল থাকলে স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

আঙুল: ডান হাতের বুড়ো আঙুলে তিল থাকলে বিপরীত লিঙ্গের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা আসার সম্ভাবনা থাকে। আর তর্জনির তিল কর্মস্থলে সাফল্য নির্দেশ করে।

পিঠ: পিঠে তিল থাকা উদারতার লক্ষণ। এরা দয়ালু ক্ষমতাবান সাহসী ও দৃঢ়চেতা হন। এরা যেমন পরামর্শ শোনেন, অন্যকে পরামর্শ দিতেও পছন্দ করেন। যুক্তিতর্কে তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। আর পিঠের নিচের দিকে তিল থাকলে এরা কিছুটা আরামপ্রিয় হন; বিপরীত লিঙ্গের প্রতি দুর্ণিবার আকর্ষণ থাকে। পিঠের নিচ দিকে তিলধারী মেয়েরা হন যথেষ্ট আবেদনময়ী।

বাহু: ডান বাহুতে তিল থাকা সৌভাগ্যের পরিচায়ক। এরা বুদ্ধি ও শক্তিতে বেশ এগিয়ে থাকেন। আর্থিকভাবেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন। এদের দাম্পত্য জীবন হয় মধুর। বাম বাহুতে তিল থাকলে দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়তে চায় না।

গোড়ালি: গোড়ালিতে তিলধারীরা পণ্ডিত মনষ্ক হন। মেয়েদের গোড়ালিতে তিল থাকলে কাজ-কর্মে চটপটে হন। বিশেষ করে রান্না-বান্নায় পারদর্শী হন।

পেট: পেটে তিল থাকা শুভ নয়। সাধারণত পেটে তিলধারীরা অলস ও কামুক স্বভাবের হন। তাদের আচার-আচরণে সুরুচির ছাপ থাকে না। কখনো কখনো তারা ভোজনরসিকও হন। তলপেটে তিল থাকলে গোপনাঙ্গে বিভিন্ন অসুখের আশঙ্কা থাকে। কখনও কখনও এর উল্টোও ঘটে।

বুক: বুকের ডানদিকে তিল থাকলে অর্থ ও সুখ্যাতি দুই-ই অর্জিত হয়। এরা উদার স্বভাবের হন। তবে সতর্ক না হলে অর্জিত সম্পদ বেহাত হতে পারে। বুকের বাঁ দিকে তিল থাকলে সাফল্য অর্জন কম হলেও তা দীর্ঘায়িত হয়। এরা জীবনে খুব বড় হতে না পারলেও জীবন সুখেই কাটে। বুকের মাঝখানে তিল দুর্ভাগ্যের পরিচায়ক। দাম্পত্য জীবনে পরকীয়া সমস্যা হতে পারে। মাঝে-মধ্যে অর্থ-কষ্টও হতে পারে।

পায়ের পাতা: ডান পায়ের পাতায় তিল ভ্রমণের সম্ভাবনা ইঙ্গিত করে। বাঁ পায়ের পাতায় যাদের তিল থাকে তারাও জীবনে ভ্রমণের সুযোগ পান, কিন্তু প্রায়ই তারা নিস্ফল ভ্রমণে সময় ও অর্থ অপচয় করেন।

কপাল: কপালের ডানদিকে তিল থাকা বিশেষ সৌভাগ্যের পরিচায়ক। প্রবল মানসিক শক্তিতে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে পারেন তারা। সাধারণত এরা হন সৌভাগ্যবান। কপালের বাঁ দিকে তিল থাকলে দুর্ভাগ্য হাতছানি দেয়। প্রচুর অর্থোপার্জন করেও তারা সঞ্চয়ী হন না। কখনো কখনো নৈতিক স্খলনও ঘটে। কপালের মাঝখানে তিলধারীরা বিশ্বস্ত প্রেমিক হন। খুব সুখী হন বিবাহিত জীবনে।

নিতম্ব: পুরুষের নিতম্বে তিল কামুক ও আবেদনময় স্বভাবের পরিচায়ক। অন্যদিকে মহিলাদের ক্ষেত্রে তা বেশি সন্তান প্রজননের ইঙ্গিত দেয়। এরা পুরুষের চাইতেও বেশি কামুক হন। অনেক ক্ষেত্রে এ কারণটাই তাদের দাম্পত্য জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়।

প্রত্যেকের শরীরে কোথাও না কোথাও তিল রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞান বলছে- ত্বকের এক জায়গায় একসঙ্গে অনেক কোষের জন্ম হলে তিল হয়। তবে যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ শাস্ত্র বলছে অন্য কথা।

সমুদ্রশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, নাভির আশেপাশে, বা চিবুকে তিল থাকলেও ধনী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। পাশাপাশি বুকে তিল থাকলে সেই ব্যক্তি বা মহিলা সহজে ধনী হন, পাশাপাশি এরা খুবই শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেন। এছাড়া কানের আশপাশে তিল থাকলেও তার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।