রেলের উন্নয়নে মন্থরগতি

রেলের উন্নয়নে মন্থরগতি

বাংলাদেশ রেলওয়ে তার ঐতিহ্য হারিয়েছে অনেক আগেই। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারই রেলের উন্নয়নের উদ্যোগের কথা বলেছে, নানামুখী পরিকল্পনার কথাও শোনা গেছে-কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাধারণ মানুষ রেলওয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিলেও লোকসানের পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসান হয়েছিল প্রায় ১২শ কোটি টাকা। দেশের জরাজীর্ণ রেল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত প্রায় এক দশকে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেগতির রেলে গতি আর আসছে না, এক হিসাবে দেখা গেছে-২০১৬ সালের মধ্যেই চার ডজন প্রকল্পের পেছনে ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে (২০০৯ সাল থেকে শুরু হয়ে পরের সাত বছরে)। প্রতিবছর যাত্রীর চাহিদা বাড়লেও বিভিন্ন জেলায় বাড়তি ট্রেন ও ট্রেনে কাঙ্খিত নতুন বগি লাগানো হচ্ছে না।

দেখা গেছে, বৈরি আবহাওয়ার অজুহাত, দরপত্র আহবানে দেরি, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি আনতে দেরিসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কাজ ঝুলিয়ে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। গৃহিত প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই চলছে ঢিমেতালে, প্রকল্প ঝুলে থাকায় বিদেশি দাতাদের অনেকে অর্থ প্রত্যাহারও করে নিয়েছে। এদিকে সড়ক নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েই চলেছে, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল। অথচ প্রতিবেশি দেশ ভারতেও রেলযোগাযোগ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর বাংলাদেশ লোকসান থেকেই বেরোতে পারছে না। ঐতিহ্যবাহী এবং জনবান্ধব এই গণপরিবহনটিকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে-পরিবেশ ও জনকল্যাণের কথা বিবেচনায় এনেই। সাধারণের জন্য সাশ্রয়ী রেলওয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে চলমান প্রকল্পগুলোকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বন্ধ স্টেশনগুলোকে সচল করা, লোকোমোটিভ এবং যাত্রীবাহী কোচের সংখ্যা বাড়ানো, সেবার মান বাড়ানোসহ এই খাতে চুরি, অপচয়, দুর্নীতি বন্ধে সরকারের মনোযোগ এখন সময়ের দাবি।