রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শাস্তি হোক

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শাস্তি হোক

১০টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়া ৩১ আগস্ট থেকে সে দেশে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। রিক্রুটিং পদ্ধতিতে কর্মি নিয়োগ বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে গেছে দেশটির শ্রমবাজার। এ শ্রমবাজার যাতে দ্রুত আবার মুক্ত হয় এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়াস নেয়া প্রয়োজন। ২০১৬ সাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বাংলাদেশের ১০টি এজেন্সি। উভয় সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মি পাঠাতে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে এ দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটটি জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। এভাবে কয়েক বছরে তারা সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের কর্মি পাঠানোর পথটি কিছু অসাধু চক্রের কারণে বন্ধ হয়ে গেল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মালয়েশিয়ার বর্তমান অবস্থান মন্দের ভাল। দুর্নীতি ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে শ্রমিক রপ্তানির সম্ভাবনা হয়তো তৈরী হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযুক্ত ১০টি রিক্রটিং এজেন্সিকে তলব করেছে। এসব এজেন্সি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতি করেছে। দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। এদের লাইসেন্স বাতিল করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা মনে করি, এখাতে সবধরনের সিন্ডিকেটিজম দূর করা প্রয়োজন। এতে স্বচছতা বাড়বে, কমবে দুর্নীতি, একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন করে উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি যাতে কোনভাবেই দীর্ঘায়িত না হয় সে জন্য সরকারকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।