রংপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৬

রংপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৬

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় গতকাল রোববার দুপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ মহিলাসহ ৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৩ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ শাহিনুর রহমান। নিহতরা হলেন গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক বর্মণ এলাকার রুবেল হোসেনের স্ত্রী রোকসেনা (১৮), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি এলাকার আনোয়ার হোসেনর স্ত্রী অমিজন (৪৫), পঞ্চগড় সদরের  শিশু শাহীন (১২), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের নুরবানু (৪০), ঠাকুরগাঁয়ের আব্দুর রহমান (৬০) ও রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মামুন মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম (২৫)। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রংপুর-দিনাজপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুর্ঘটনায় বাস দুটি দুমড়ে মুছড়ে যায়।

রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমীন মিয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট আব্দুল মোন্নাফকে। অপর দুই সদস্য হচ্ছেন বিআরটিএ ও পুলিশের কর্মকর্তা। নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা, আহতদের ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালের মর্গে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনায় নিহত অমিজনের স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, পাঁচ বছরের নাতি ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ছেলের বাড়ি যাওয়ার সময় আমার স্ত্রীকে হারালাম। নাতি আমার স্ত্রীর কোলে ছিল তার কোন ক্ষতি হয়নি। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছে।দুর্ঘটনার পর দিনাজপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড় জেলার সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী হোসেন আলী জানান, রংপুর থেকে পঞ্চগড়গামী বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ও দিনাজপুর থেকে রংপুরগামী রুবি পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে এতে ঘটনাস্থলে ৩ মহিলা ও এক পুরুষ মারা যায়। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায় অপর দুই জন।রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বিআরটিসি বাসটি সিও বাজার এলাকায় পৌঁছালে দিনাজপুর  থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী জোয়ারদার পরিবহনের অপর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৬ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী বলে জানা গেছে। আহত হয় দুই বাসের অন্তত ৩৫ যাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস হতাহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহত বিআরটিসির যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, মেডিকেল মোড়ে বিআরটিসিতে উঠারপর থেকে চালক মোবাইল ফোনে কথাবলা শুরু করেন। বাসটি সিও বাজার এলাকায় পৌঁছলে চালক এক হাতে বাসটির নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রুবি পরিবহনের অপর আহত যাত্রী আকবর আলী জানান, দিনজপুর থেকে গেটলক বাসটি ছাড়ার পর থেকে এর চালক দ্রুত গতিতে চালাতে থাকে। যাত্রীরা তাকে নিষেধ করলে চালক যাত্রীদের জানান, পৌনে দুই ঘন্টার মধ্যে রংপুর যেতে হবে তা না হলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। এই বলে সে দ্রুত গতিতে চালাতে থাকে। বাসটি সিওবাজার এলাকায় পৌঁছলে চালক এর নিয়ন্ত্রণ হারালে বিআরটিসি বাসটিকে প্রচন্ড গতিতে ধাক্কা দিলে এই প্রাণ হানির ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনায় নিহতদের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রংপুর সদর থানার ওসি মোক্তারুল আলম জানান, নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।