রংপুরে এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা

রংপুরে এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে ১০ টাকা এবং খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করায় গত এক সপ্তাহে বাজারে প্রতি কেজিতে চালের দাম কমেছে ৩ থেকে ৫ টাকা। এতে করে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ বেশ খুশি।  রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় কার্ডধারীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। কার্ডধারী আকলিমা খাতুন জানান, চালের যে দাম বাড়ি গেইছিল তাতে হামার মতন গরিব মানুষগুলা ৩ কেজি চালের পরিবর্তে ২ কেজি চাইল কিনছুনু কিন্তু সরকার হামাক একটা কার্ড দিছে। তাতে হামরা ১০ টাকা করি ৩০ কেজি চাউল কিনবার পাওছু। আবু মিয়া জানান, ১০ টাকা কেজি চাল পায়য়া হামার খুব উপকার হইছে। এমনিভাবে যেন সারা বছর ১০ টাকা করি সরকার হামাক চাল দেয় ।  

মাহীগঞ্জের চাল ব্যবসায়ী কবির হোসেন ও এসকেন্দার মিয়া জানান, হঠাৎ করেই হাট-বাজারে ধানের সরবরাহ বেড়ে গেছে। বড় গৃহস্থরা তাদের গোলার ধান হাটে তুলছেন বিক্রির জন্য। এছাড়া মজুদদার ব্যবসায়ীরাও ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরকার কার্ডধারীদের ১০ টাকা কেজি এবং খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজিদরে চাল বিক্রি শুরু করে দেওয়ায় দাম পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা ধান ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে করে  চালের দাম কমেছে। সিটি বাজারের গালামাল ব্যবসায়ী আলম ও মাহীগঞ্জ বাজারের দোকানি গৌতম চন্দ্র  জানান, এখন প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা কেজি দরে। আর চিকন চাল প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজিতে। তারা জানান, আমরা কম দামে চাল কিনছি তাই কম দামে বিক্রি করছি। খোলা বাজারে চাল বিক্রির ফলে চালের চাহিদাও কমে গেছে।

রংপুরের পুরনো শহর মাহীগঞ্জ বাজারে এক সপ্তাহ আগে মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে। আর চিকন চাল ৫২ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজি। এতে করে গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন। চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে রংপুরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব খোলা বাজারে কার্ডধারীদের প্রতিকেজি চাল ১০ টাকায় দেয়া হচ্ছে। একজন কার্ডধারী প্রতি মাসের জন্য ৩০ কেজি চাল পাচ্ছেন। আর সরকার ৩০ টাকা দরে খোলা বাজারেও চাল বিক্রি শুরু করেছে ডিলারদের মাধ্যমে। এতে করে চালের বাজার কমতে থাকে। বর্তমানে দোকানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৩ টাকা। আর চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে।
রংপুর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম বলেন, খোলাবাজারে চাল বিক্রির সাথে সাথে চালের বাজার কমে আসছে। দাম কমার ভয়ে বড় ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা ধান ছেড়ে দিচ্ছে। রংপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহজাহান ভুইয়া জানান, জেলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১ জন কার্ডধারি রয়েছে। তাদের কার্ডপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে এক মাসের জন্য। প্রতি কেজি চালের দাম ১০ টাকা। এজন্য ২৫৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ৭৬টি ইউনিয়নের ৮ উপজেলায় এসব চাল বিক্রি করা  হচ্ছে। আবু সাদাত মোঃ শাওন নামের এক ডিলার জানান, বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় আমাদের মাধ্যমে দেয়া খোলা বাজারে চাল বিক্রি বেশি হচ্ছে। এতে করে বাজারেও চালের দাম কমছে।