মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি

বছর তিন-চার আগেও অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে নৌডুবিতে বহু মানুষের প্রাণ গেছে। তখন মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের কারাগারেও স্থান হয় বহুজনের। অনেকে গহিন জঙ্গলে আফিম চাষের জন্য ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হয়ে যায়। অনেককে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটে সে সময়। আবার ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারলেও অনেককে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে  হয়। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অনেককে পালিয়ে বেড়াতে হয়। ধরা পড়ার পর ঠাঁই হয় কারাগারে। কাটাতে হয় মানবেতর জীবন। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া দালালদের নানা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে, ফুসলিয়ে ভাগ্যান্বেষী মানুষকে আকৃষ্ট করে সর্বনাশা পথে। এক সময় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে ধস নামে। অনেক চেষ্টার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এর আগে সে দেশে অবস্থানকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় সুযোগ।

বাংলাদেশ থেকে একজন শ্রমিক পাঠাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু এখানেও গড়ে ওঠে সিন্ডিকেট। জানা যায়, সরকার যে ১০টি এজেন্সিকে রিক্রুটের দায়িত্ব দিয়েছে তারা নিয়ম মেনে কাজ করছে না। প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে নির্ধারিত খরচের অতিরিক্ত তিন চার লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তারপরও শ্রমিকদের ঠিকমতো পাঠানো হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর হচ্ছে, সব টাকা-পয়সা নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২৫ হাজার শ্রমিককে পাঠানো যায়নি। এখন এই ২৫ হাজার শ্রমিকের ভাগ্য পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদের ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ।  গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সুযোগে হাতছাড়া করা যাবে না শ্রম বাজার। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যবস্থা নেবে।