মাদকবিরোধী অভিযানে চার জেলায় গুলিতে নিহত ৫

মাদকবিরোধী অভিযানে চার  জেলায় গুলিতে নিহত ৫

করতোয়া ডেস্ক : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে চার জেলায় আরও পাঁচজন গুলিতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কুষ্টিয়ায় দুইজন এবং নাটোরে একজনের প্রাণ গেছে। আর ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলির মধ্যে’ নিহত হয়েছেন দুইজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মে মাসে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রায় প্রতি রাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘মাদক বিক্রেতাদের’ নিহত হওয়ার খবর দিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের ঘটনায় গত দুই মাসে প্রায় দুইশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।     কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের আনান্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন  জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে গোলাগুলির ওই  ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাবের  কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমিনুলের ভাষ্য। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার রাজারহাট মোড় এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) এবং একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল আহম্মেদ (৩০)। তারা দুজনেই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তা মোহাইমিনুল বলেন, চোরাকারবারিরা ‘মাদক কেনাবেচার জন্য’ জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে অবস্থান করছে খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে।  এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির  এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কয়েকজন পালিয়ে গেলে সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে পাওয়া যায়  ওই দুইজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মোহাইমিনুল। তিনি বলছেন, এই অভিযানে দুই র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল,  ১২ রাউন্ড গুলি ও ‘বিপুল পরিমাণ’ ইয়াবা ও ফেন্সিডিল  উদ্ধার করা হয়েছে।  
আমাদের বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ওসমান গণি (৩৫) নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই র‌্যাব সদস্য। গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাহিমালি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ওসমান উপজেলার গুড়–মশৈইল গ্রামের মৃত মনসুর আলী মুন্সীর ছেলে। আহতরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক মনজুর আহমেদ ও কনস্টেবল এনামুল হক।
র?্যাব-৫, নাটোর ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, র‌্যাব-৫, রাজশাহীর, সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্পের একটি টহল দল ডিউটি পালনকালে গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বাহিমালী মোড় হতে ভাটোপাড়া গ্রামে যাওয়ার একশ’ গজ উত্তরে কাঁচা রাস্তার ওপর টর্চের আলো এবং কিছু লোকের আনাগোনা দেখতে পান। এ সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাবের টহল দল ওই স্থানের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এক পর্যায়ে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু লোক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদেরকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তারা টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় টহল দল সরকারি সম্পদ ও নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আনুমানিক ৫ মিনিট গুলিবিনিময়ের পর ঘটনাস্থলে অজ্ঞাতনামা একজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং দলের অপর ৩/৪ জন সদস্য পালিয়ে যান। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর র‌্যাবের আহত দুই সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলির একটি খালি খোসা, সাদা পলিথিনের প্যাকেটে রক্ষিত বাদামী রঙের সর্বমোট ৪১০ গ্রাম হেরোইন, নগদ এক হাজার চারশ’ দশ টাকা, একটি চার্জার লাইট, দুইটি গ্যাস লাইট, একটি মোবাইল ফোন, দুইটি সিগারেটের প্যাকেট এবং বিভিন্ন কালারের সাতটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
পরে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস নিহত ব্যক্তির নাম মো: ওসমান আলী (৩৫) বলে জানান। তিনি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার গুড়–মশৈইল গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেন। তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। জেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. সোহেল রানা ওরফে সুরাইয়া সোহেল দেনায়েতপুর গ্রামের আবদুল মুনাফের ছেলে । তার বিরুদ্ধে রায়পুর ও চাঁদপুরের হাইমচরসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা রয়েছে বলে রায়পুর থানার ওসি আজিজুর রহমানের ভাষ্য। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে তারা গ্রেপ্তার করেন । পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৩টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের সিংয়ের পুল এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা উদ্ধারে অভিযানে যায় পুলিশ। ওসি বলেন, সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সোহেলের সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে । ওই সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এর মধ্যে সোহেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হন। আহত সোহেলকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সদর হাসপাতালে পাঠান। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি। তিনি বলছেন, এই অভিযনে থানার এস আই মোতাহার ও এস আই গোলাম মোস্তফাও আহত হয়েছেন । তাদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে । ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিন রাউন্ড গুলি ও ৩০০ ইয়াবা উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে গ্রেপ্তার অপহরণ, হত্যা ও মাদক মামলার এক আসামি ঢাকার কেরানীগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। কেরানীগঞ্জের দেওসুর এলাকার মনীর হাজির বালুর মাঠে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহ জামানের ভাষ্য। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জুবায়ের বলছেন, নিহত নূর হোসেন নূরার (৩৫) বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলা রয়েছে। পুলিশের ‘শীর্ষ মাদক চোরাকারবারীর’ তালিকাতেও তার নাম ছিল। পরিদর্শক শাহ জামান  বলেন, পলাতক নূরাকে মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে রাতে কেরানীগঞ্জের দেওসুরে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার অভিয়ানে যায় পুলিশের একটি দল। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সহযোগীরা নূরাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের দিকে গুলি করে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালায়। এর মধ্যে নূরা গুলিবিদ্ধ হয়। নূরাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান পরিদর্শক শাহ জামান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানশুটার গান, একটি চাপাতি ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।