ভোট আর না করার ‘মোটামুটি সিদ্ধান্তে’ মুহিত

ভোট আর না করার ‘মোটামুটি সিদ্ধান্তে’ মুহিত

আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে নিজের দোদুল্যমান অবস্থার ইতি টানতে মোটামুটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের লভ্যাংশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, তিনি আর ‘নির্বাচন- টির্বাচন’ করছেন না।

টানা দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর নিজের বয়সের কথা তুলে ধরে ৮৫ বছর বয়সী মুহিত একাধিকবার বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না তিনি।

নিজের নির্বাচনী আসন সিলেট-১ এ প্রার্থী হিসেবে ছোট ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এটাও বলেছিলেন, প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থী দেখে হয়ত তাকে আবার নির্বাচন করতে হতে পারে।

একদিন আগে মুহিত নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ও নির্বাচনকালীন সরকারে তার থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন; যা তার এখতিয়ার বহির্ভূত বলে সমালোচনাও উঠেছে।

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন কি না- বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকার কবে হবে, তা নিয়ে গতকাল নাগরিক হিসেবে আমি মতামত দিয়েছি। নির্বাচনকালীন সময়ে আমি থাকব কি না, তা জানি না। তা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন।

“আমার ধারণা আমি হয়ত থাকব। একটি কারণ, আমি তো নির্বাচন-টির্বাচন করছি না।”

এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কি না- প্রশ্ন করা হলে মুহিত বলেন, “এখন মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি, তবে এখনও ডিক্লেয়ার করিনি।”

আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেওয়ার সময় নিজের আসনে ভাই মোমেনকে সমর্থন দেবেন বলে জানান তিনি।

সিলেটের ওই আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সদর ও সিটি করপোরেশনের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা এম সাইফুর রহমানকে হারিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুহিত। বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।

সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের আমলে দুটি বাজেট দেওয়া মুহিত আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১০টি বাজেট দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মুহিত ইতোপূর্বে জানিয়েছিলেন, এরপর আর মন্ত্রী হচ্ছেন না তিনি। অবসরে গিয়ে লেখালেখি করে সময় কাটাবেন।