‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’

ভারসাম্যের রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্য জরুরি

ভারসাম্যের রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্য জরুরি

দেশে গণতন্ত্র না থাকায় পরিবহন সেক্টরসহ সব ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণে রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন, ছাত্ররা এটাই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হবে। আর সেই মেরামতটা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। তবে ভারসাম্যের রাজনীতি ও জাতীয় ঐক্য ছাড়া সেটা সম্ভব নয়।  

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ আয়োজিত শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে বক্তরা এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, আছে গুন্ডাতন্ত্র। গুন্ডারা পুলিশের সঙ্গে লাঠি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নিরহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে। পুলিশ-গুন্ডা পার্টনারশিপ হতে পারে না। আমরা গুন্ডামুক্ত বাংলাদেশ চাই। এদের থেকে দেশকে মুক্ত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে, ঐক্যবদ্ধ হোন। এই ঐক্যবদ্ধ মানুষকে গুন্ডা লেলিয়ে ধবংস করা যাবে না। পুলিশের পাশে লাঠি হাতে ‘গুন্ডাবাহিনীর অবস্থানের’ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আগস্টের শোকবহুল মাসে নিরহ শিক্ষার্থীদের ওপর গুন্ডাদের হামলার ঘটনা ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেন। বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ছাত্ররা ন্যায়বিচার চেয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপদ সড়ক এবং একটি সুশৃঙ্খল দেশ। এটা সমগ্র দেশবাসীরও দাবি। কিন্তু সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ ন্যায়ের বদলে অন্যায় হয়ে যাচ্ছে। সরকারি দলের গুন্ডারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। একজন মা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি এতে উদ্বিগ্ন হবেন না? তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যদি এর প্রতিবাদ না করি, এক কন্ঠে যদি কথা না বলি- তাহলে মনে হয় না এই সরকার বুঝবে। এই সরকার বুঝার মতো সরকার নয়। শুধুমাত্র দেশপ্রেমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হচ্ছে এমন মন্তব্য করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এদেশটা সুশৃঙ্খল হোক, আরো সুন্দর হোক, কোনো অন্যায় থাকবে না- এই স্বপ্নে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হয়ে উঠেছে। এটাকে সমর্থন করলে আপনি (সরকার) বলবেন- আমি রাজনীতি করছি। রাজনীতি কী এদেশে নিষিদ্ধ? যে রাজনীতি দেশে মঙ্গল বয়ে আনবে, সেই রাজনীতির জন্য রাজনীতিবিদের জন্ম। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবোই। বি. চৌধুরী বলেন, আমরা শুভ পরিবর্তন চাই। এমন পরিবর্তন আনতে হবে যে পরিবর্তন সম্পূর্ণ আলাদা-সেখানে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াবো। তবে এজন্য ভারসাম্য রাজনীতি থাকতে হবে। সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রের ওপর চেপে বসা ফ্যাসিস্ট শক্তি সব তছনছ করে দিচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা করে তাদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে। রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন, ছাত্ররা এটাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা ঐক্যের পথ দেখিয়েছে, এখন আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া দেশের ভয়ংকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। নিজের নামে হওয়া মামলা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মামলা এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আমার নামে ৮৬টি মামলা আছে। আমাদের কোনো কোনো নেতার ১৫০-২০০টি মামলা আছে। মামলা দিয়ে প্রতিবাদ বন্ধ করা যাবে না। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা এই রাষ্ট্রকে মেরামত করতে চাই। যে রকম মেরামত আমাদের শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা চাইছে। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের মেরামত চলছে, মেরামতটা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের পরিচালনায় সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির  আবদুল মালেক রতন, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিকল্পধারার আবদুল মান্নান, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আবদুস সালামসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’র পক্ষ থেকে গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।