ব্রহ্মপুত্র থেকে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে বাঁধ ও গুচ্ছগ্রাম

ব্রহ্মপুত্র থেকে বালু উত্তোলন হুমকির মুখে বাঁধ ও গুচ্ছগ্রাম

আমিনুল হক, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা সীমানার সানকিভাঙ্গা এলাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সদ্য নির্মিত ফুলছড়ির গজারিয়া গুচ্ছ গ্রাম ও সানকিভাঙ্গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। আশপাশের আবাদি জমি ফসলসহ দেবে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে সানকিভাঙ্গা গ্রামবাসীর পক্ষে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের সানকিভাঙ্গা গ্রামের নান্নু মিয়ার পুত্র রাসেদুল ইসলাম রাসেদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ৩টি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন এবং সেই বালু বিক্রি করছে। এর ফলে ওই এলাকাগুলোর আশপাশের আবাদি জমিসহ মাটি দেবে যাচ্ছে। পাশাপাশি সদ্য নির্মিত ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া গুচ্ছগ্রাম ও সানকিভাঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলনের ফলে গভীর খাদের সৃষ্টি হওয়া স্থানে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি এসে ঘুরপাক খেয়ে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হবে।

সানকিভাঙ্গা গ্রামের টিক্কা মিয়া, মিন্টু মিয়া ও মাজেদা বেগম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে অনেক দূর পর্যন্ত ফাটল ধরেছে। আবাদি জমি দেবে যাচ্ছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দিনরাত বালু তুলছে। তারা আরও বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে সাঘাটা-গাইবান্ধা সড়ক হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হবে। একই গ্রামের বাবু মিয়া বলেন, গত ৬ মাস থেকে তারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। বাঁধা দিলেও তারা শুনছে না। বালু তোলার কারণে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। আবাদি জমি দেবে যাচ্ছে। বালু উত্তেলনকারী সানকিভাঙ্গা গ্রামের রাসেদুল ইসলাম রাসেদ বলেন, ক্ষমতায় থেকে যদি বালু তুলতে না পারি, তাহলে কিসের জন্য দল করি। অভিযোগকারী আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা দেইনি সেই জন্য সে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেছে। কই কিছুতো করতে পারলো না। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান
    
জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা দেখছি, যদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইগতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, নদী কিংবা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে কেউ যদি বালু উত্তোলন করে সেক্ষেত্রে আমরা মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সেখানে আমরা মোবাইল কোর্ড পরিচালনা করবো।