বেতন-বোনাস নির্ধারিত সময়েই, আশ্বাস ব্যবসায়ী নেতাদের

বেতন-বোনাস নির্ধারিত সময়েই, আশ্বাস ব্যবসায়ী নেতাদের

রোজার ঈদকে সামনে রেখে আগামী ১০ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের মে মাসের বেতন এবং ১৪ জুনের মধ্যে উৎসব ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং এফসিসিআইয়ের নেতারা এই আশ্বাস দেন।

ঈদের আগে সময়মতো শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন, সেখানেও তারা নির্ধারিত সময় বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “নির্ধারিত সময়েই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। কিছু ছোট-খাট প্রবলেম থাকবে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। সবার মতো শ্রমিকরাও হাসি মুখে বাড়ি যাবেন।”

শিল্প পুলিশ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিজিএমইএ-এর ১৫টি মনিটরিং কমিটি কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই ১৪ জুন ছুটির আগে বেতন-বোনাস শান্তিপূর্ণভাবে দিয়ে দেব।”

প্রতি বছরই শিল্প শ্রমিকদের বিশেষ করে পোশাককর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। যার ফলে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচিতে দেখা যায় শ্রমিকদের।  

সিদ্দিকুর বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএ-এর সদস্য নয়, তাদের নিয়ে সমস্যা হয়।

“এবার তারাও বলেছেন, সময়মত বেতন-ভাতা দিয়ে দেবেন।”

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সেফটি ইস্যুতে আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো।”

“আপনারা কোনো রকম উসকানি ও বিপথগামীদের ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে কেউ ঈদ করতে যায়নি, আগামীতেও যাবে না। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে ঈদ করতে যাব না, এটা আমি এনশিউর করছি,” শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন তিনি।

২০ রোজার মধ্যে বেতন-বোনাস দাবিতে মানববন্ধনে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন (ফাইল ছবি)

২০ রোজার মধ্যে বেতন-বোনাস দাবিতে মানববন্ধনে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন (ফাইল ছবি)

সভায় বিটিএমএ-এর প্রতিনিধি বলেন, “নির্দিষ্ট সময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ করব, শ্রমিকদের সন্তুষ্ট করেই প্রতিষ্ঠান চালাই।”

বিকেএমইএ-এর একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “ঈদে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেব। আমাদের প্রেসিডেন্ট কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন যেন শ্রমিকরা পাওনা ঠিকমতো বুঝে পান।”

১৪ জুনের পরে বিকেএমইএ-এর আওতাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে হলে অবশ্যই সংগঠনের অনুমতি নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

সবার বক্তব্য শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “তারা দৃঢ়ভাবে বলেছেন সময়মত বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। আশা করি ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা হবে না।

“১০ জুনের ম্যে মে মাসের বেতন এবং ১৪ জুনের মধ্যে বোনাস পাবেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন।”

রাস্তার পাশে যেসব কারখানা আছে সেসব কারখানার কারণে ঈদের সময় যেন যানজটের সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যভুক্ত হয়নি সেগুলোকে সংগঠনভুক্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।

সেবাখাত মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।