বিজয়ের মাসে বগুড়ায় শিল্পী আলমগীরের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য সাড়া জাগিয়েছে

বিজয়ের মাসে বগুড়ায় শিল্পী আলমগীরের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য সাড়া জাগিয়েছে

শাওন রহমান : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য বানিয়ে চলেছেন শিল্পী আলমগীর হোসাইন। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে সর্বশেষ তিনি ‘৭১ বগুড়া’ নামে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য তৈরি করছেন। এখন চলছে ভাস্কর্যটির শেষ মুহূর্তের কাজ। এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে চান। সে লক্ষ্য নিয়েই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরির পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য তৈরিতে হাত দিয়েছেন। বিক্রি বা নিজেকে জাহির করার জন্য নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ তিনি এ ভাস্কর্যটি তৈরি করছেন। এটি তিনি বগুড়ার নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করতে চান। আসছে ১৬ ডিসেম্বরে ‘৭১ বগুড়া’ ভাস্কর্যটি তিনি শহরের প্রাণকেন্দ্র নবাববাড়ী মোড়ে স্থাপন করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ পৌর পিতার সহযোগিতা কামনা করেছেন।  

শিল্পী আলমগীর জানান, গত প্রায় দু’মাস ধরে শহরের স্টেশন রোডে তিনি ভাস্কর্যটি নির্মাণ করে চলেছেন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালির জন্য বিজয় যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে দেখা দেয়, ঠিক সে মুহূর্তকে তিনি এ ভাস্কর্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এতে বিভিন্ন বয়সী ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে যাদের মধ্যে রয়েছে একজন করে নারী, ছাত্র, যুবক ও কৃষক ও কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল তাই এখানে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্তাঞ্চলের নাম না জানা অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে এ ভাস্কর্যে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। শিল্পী আরও  বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধা অখ্যাত, যাদের কেউ চেনেনা কিংবা কেউ যাদের খোঁজ রাখেনি অথচ এইসব মুক্তিযোদ্ধার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে অর্জিত বিজয়কে উপলব্ধি করাতেই কৃষক মুক্তিযোদ্ধার হাতে শান্তির পায়রা উড়ানো হয়েছে। এছাড়াও কিশোর মুক্তিযোদ্ধার হাতে থাকবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

শিল্পী আলমগীর জানান, ১৯৭১-এ তার জন্ম। মায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের গল্প শুনে শুনে তিনি বড় হয়েছেন। দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে তার ছোটবেলা থেকেই। তাই ভাস্কর্য তৈরিতে তিনি সব সময়ই মুক্তিযুদ্ধ ও এ বিষয়গুলোতে উপজীব্য করার চেষ্টা করেন। তার ধারণা, এতে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কিছুটা ঋণ তিনি শোধ করতে পারবেন। এছাড়াও শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ভাস্কর্য স্থাপন করা গেলে তা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবাবে। এ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে এ ধরনের কাজের বিকল্প কিছু নেই। গল্পে গল্পে শিল্পী জানালেন, দীর্ঘ দু’মাসে রাস্তার পাশে কর্মরত অবস্থায় অসংখ্য কৌতুহলী মানুষ তার কাজ দেখছেন আগ্রহভরে। কেউ আবার ভাস্কর্যটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে ৩ লাখ টাকা দামও করেছেন। তিনি বলছেন, এটি বিক্রির জন্য নয়। এটি বগুড়াবাসীর জন্য, নতুন প্রজন্মের জন্য। এর আগে বিজয়ের মাসে শিল্পী আলমগীর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করে বগুড়াবাসীকে বিমোহিত করেছেন।