বিজয়ের চেতনায় এগিয়ে যাবে দেশ

বিজয়ের চেতনায় এগিয়ে যাবে দেশ

আতাউর রহমান মিটন: বিজয়ের মাস এলেই মনে পড়ে যায় ‘স্বাধীনতা তুমি, রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান। স্বাধীনতা তুমি কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা’। আমাদের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শামসুর রাহমান এর ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি যেন আজও আমাদের হৃদয়ে লেখা হয়ে আছে। মহান বিজয়ের এই মাসে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল সংগ্রামী নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। নিজেদের জীবন বাজী রেখে দেশের মানুষকে পরাধীনতা ও বঞ্চনার খাঁচা থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যে মানুষগুলো নানাভাবে যুক্ত থেকে আমাদের বিজয় অর্জনে সহায়তা করেছেন আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক সংগ্রাম। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বললেও অত্যুক্তি হবে না। কারণ এই সংগ্রাম কেবল ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম ছিল না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা-যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে’। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের চাওয়া ছিল, মানুষের আশা-আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতি রেখে শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাষ্ট্র সহযোগিতাপূর্ণ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

মহান বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক ‘জনগণ’। সংবিধান বলছে, ‘মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে’ (অনুচ্ছেদ : ১০)। অনুচ্ছেদ ১১-তে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।
 
বিজয়ের এই মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মূলতঃ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় সংসদের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া অত্যাবশ্যক। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু’র ডাকে যে মহান সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষ অংশ নিয়েছিল সেই একই প্রেরণা, তথা জনগণের রায়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ সুনিশ্চিত করতেই আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে আজ যে সংশয় দেখা দিয়েছে সেটা আমাদের কাম্য ছিল না। জনগণের আকাঙ্খা ছিল সরকার তথা নির্বাচন কমিশন সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করবেন। কিন্তু নানা কারণে সেই সদিচ্ছা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠছে। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হোক-আওয়ামী লীগ কোনো অবস্থাতেই সেটি চায় না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন নষ্ট না হয়।
 
বিজয়ের মাসে নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে মন চাইছে না কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের অন্য সকলের মত আমারও মনোজগত জুড়ে রয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যখন কেউ সংশয়ের সাথে প্রশ্ন করে, ‘নির্বাচন ঠিক সময়ে হবো তো’, তখন অজানা আশঙ্কায় বুকের ভেতরটা আঁৎকে ওঠে। একটা বিপদের গন্ধ যেন নাকে ভেসে আসে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত একতরফা আর কোন নির্বাচন এদেশের মানুষ চায় না। যদি একতরফাই সবকিছু করতে হয় তাহলে গণতন্ত্রের আর দরকার কী? ঘোষণা দিয়ে একদলীয় ব্যবস্থা চালু করলেই হয়। কিন্তু অনেক দাম দিয়ে কেনা এই বাংলায় এমন একটি ব্যবস্থা তো আমরা চাই না। আমাদের বিজয়ের আনন্দ তাতে নি®প্রাণ হয়ে যাবে। মানুষ ভয়ে সংকুচিত হয়ে নিজের অদৃষ্টকে দোষারূপ করতে শুরু করবে।  বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাঙালি তখন নুয়ে পড়বে সংকোচে। আমরা সেটা হতে দিতে চাই না। আমাদের মুক্তিসংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি সেটা কোন সম্মান দেখানো হবে না। বাংলাদেশ এখন এক উদীয়মান সূর্যের নাম। এই দেশের অগ্রগতি ও অসামান্য সাফল্যে অনেকেই বিস্মিত। এই অর্জন বাংলাদেশের আপামর মানুষের সম্মিলিত অর্জন। এই যে এগিয়ে চলা, এত যে অর্জন এর কিছুই হয়তো পরাধীন থাকলে সম্ভব হতো না। বিজয়ের সার্থকতা সেখানেই! সেখানেই স্বাধীনতা, কবির ‘যেমন ইচ্ছে লেখার কবিতার খাতা’। এই স্বাধীনতা, বিজয়ের এই প্রেরণায় আমাদের বিকশিত হতে হবে। বিকশিত করতে হবে নতুন প্রজন্মকে।

আমাদের দেশে এখন আস্থার একটা বিরাট সংকট চলছে। ভরসা করার মত নেতৃত্বের অভাব সর্বত্র। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সবাই যেভাবে একক নেতৃত্বের অধীনে সংঘবদ্ধ হতে পেরেছিল, আজকে আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। একটা অবিশ্বাসের সংস্কৃতি যেন বিস্তৃত হয়েছে সবার মনে। এর শেকড় উপড়ে ফেলার জন্য আমাদের মনোনিবেশ করা দরকার। এর জন্য সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের গা ঝেড়ে সামনে আসা প্রয়োজন। আগামী নির্বাচন জাতির জন্য এক অনন্য সুযোগ। সুন্দর আগামী গড়ে তোলার জন্য প্রত্যয়ী এবং আস্থাশীল নেতৃত্বকে নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে। এই হিসেবে ভুল করার কোন সুযোগ নাই।

বিজয় শুধু অর্জন করলেই হয় না, বিজয় ধরে রাখতে হয়। যোগ্য নেতৃত্ব বিকশিত না হলে, যোগ্যরা সুযোগ বঞ্চিত হলে ভাগ্যাহত হবে সাধারণ জনগণ। তাই নির্বাচনকে সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণের কৌশল হিসেবে নিতে হবে। আমার ভবিষ্যত গড়ার দায়িত্ব যদি আমার হয়, তাহলে বিজয়ের ফসল ঘরে তোলা এবং সেই ফসলের বীজ থেকে সম্ভাবনার জমি চাষ করার দায়িত্বও আমার। আমার ভাগ্য রচনার ভার আমি যদি উদাসীনতায় অন্যের উপর ছেড়ে দিয়ে রাখি তাহলে ক্ষতি কার?

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর আমাদের কাছে প্রেরণার মাস। এই মাসের শুরু থেকেই গণমাধ্যমসহ সর্বত্র বিজয় দিবসের পটভূমি, প্রাসঙ্গিকতা, ভবিষ্যত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। বছর বছর এটাই হয়ে আসছে, আগামীতেও হয়তো তাই হবে। কিন্তু এর মধ্যেও আমাদেরকে স্বপ্ন দেখতে হবে। মানুষ আসলে তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। তাই স্বপ্নটা ছোট করে দেখলে চলবে না। আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন, যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাদের কাছে এই সুযোগে কতিপয় জনদাবি তুলে ধরতে হবে। চেষ্টা করতে হবে তারা যেন জনগণের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ এবং দাবি পূরণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এটা ঠিক একটি আসনে একজনই জিতবেন, কিন্তু অঙ্গীকার আদায় করতে হবে সকলের কাছ থেকে। যারা নির্বাচিত হতে পারবেন না, তারাও জনগণের হয়ে কাজ অব্যাহত রাখতে পারেন। জনগণের জন্য কাজ করাটা কোন মৌসুমী ব্যাপার নয়। এটা সার্বক্ষণিক। তাই একজন আগ্রহী জনপ্রতিনিধি, একজন গণমানুষের নেতাকে সবসময় জনগণের সাথে তাদের দাবি পূরণে সক্রিয় থাকতে হবে।

এটা ঠিক যে, আমাদের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বাড়ছে। গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, দেশ স্বাধীনের পরে যেখানে ১৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নির্বাচনে অংশ নিতেন সেখানে এখন এটা দাঁড়িয়েছে ৬৯ শতাংশে। গত ছয় বছরের কম সময়ে সংসদ সদস্যদের আয় বেড়েছে ৩২৪ শতাংশ। বর্তমানে সংসদ সদস্যদের বার্ষিক গড় আয় প্রায় কোটি টাকা, যা একজন সাধারণ মানুষের আয়ের প্রায় শতগুণ। টাকার ক্ষমতার কাছে অনেক ত্যাগী ও যোগ্য নেতারাই আজ হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। রাজনীতির এই পরিবর্তনটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার সাথে ঠিক মেলাতে পারি না। ব্যবসায় পরিণত হওয়া রাজনীতি আমাদের বিজয়ের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আমাদের প্রগতিশীল ধারা। এর চাকাটা ঘোরাতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের স্বপ্নকে, সার্থক করতে হবে বিজয়ের আনন্দকে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় জনগণের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে হবে। মহান বিজয় দিবসের চেতনায় কি কি কাজ করা দরকার তা চিহ্নিত করে দাবীনামা তৈরী করতে হবে। তারপর সেই দাবীগুলো এলাকার একজন মানুষ হিসেবে নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাদের অনুরোধ করে বলতে হবে, দয়া করে জনগণের এই দাবীগুলো আপনারা মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন এবং দাবী পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গিকার করুন। কারণ, রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের অধিকার সমান। বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫.ক অনুচ্ছেদে অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। নাগরিকের মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা কোন দান বা অনুগ্রহের বিষয় নয়।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। তথাপি দেশের ২১% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, দূর্গম এলাকা, দলিত, আদিবাসী ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষের মধ্যে বৈষম্য বিরাজমান। সুযোগ বঞ্চনার শিকার হয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মধ্য আয়ের দেশ গড়ার সাথে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাই আমরা চাই, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার আলোকে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হোক। দেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিড ডে মিল চালু করা হোক। নিশ্চিত করা হোক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিনামূল্যে ফরম পূরণের। সকলের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে সহজশর্তে ‘গৃহঋণ’ চালু করা হোক। সকল চাকুরীর আবেদনপত্রের সাথে ব্যাংক ড্রাফট/পে অর্ডার ইত্যাদি প্রদান আইনতঃ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক।  এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট নির্মাণ, রাস্তায় বাতির ব্যবস্থাসহ চলাচলের ক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিবেদিত ও যোগ্য সংস্কৃতিকর্মী এবং ক্রীড়াবিদদের অবদানকে সরকারি মর্যাদা ও সহায়তা প্রদান করা এবং সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। বিজয়ের মাস আমাদের কাছে কেবল আনন্দের উৎসবের মাস নয়। বরং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য এই মাস আমাদের কাছে প্রেরণার। এই মাস আমাদেরকে শেখায়, ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়। তাই সবার আগে দেশ। সবার উপরে দেশ। টাকা দিয়ে নমিনেশন কেনা গেলেও জনগণের ভালবাসা কেনা যাবে না। জনগণকে পাশে পেতে হবে ভালবাসায়, বিজয়ের প্রেরণায়। বিচিত্র ছলনাজালে নিমজ্জিত রাজনীতিকে বিজয়ের মাসের অনুপ্রেরণায় আবার জাগিয়ে তুলতে হবে। ত্যাগের মহিমায় এগিয়ে নিতে হবে আগামী প্রজন্মকে।
লেখক: সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
-০১৭১১৫২৬৯৭৯