বরিশালে নির্ণায়ক ৬৫ হাজার ভোটার

বরিশালে নির্ণায়ক ৬৫ হাজার ভোটার

বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার নতুন করে ৩১ হাজার ভোটার হয়েছেন; তরুণ এসব ভোটার ছাড়াও এ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৩৫টি বস্তিতে বসবাস করেন আরও প্রায় ৩৪ হাজার ভোটার। নতুন ও বস্তিবাসী মিলে ৬৫ হাজার ভোটারের ভোট টানতে আলাদাভাবে নজর দিচ্ছেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা। তরুণ ভোটারদের মন কাড়তে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বস্তিবাসীদের ভোট কেনার প্রবণতা আগে থাকলেও এখন তা কাজে দেবে না বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কল্যাণের দিক বিবেচেনা রেখে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে। আর বস্তিবাসীদের কর্মসংস্থানসহ তাদের সমস্যা সামাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনে বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান সরওয়ারসহ ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে এই সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ২৫৭টি, এবার ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬টি। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ৩৫ বস্তি রয়েছে, সেখানে ভোটার ৩৪ হাজার বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়। বরিশাল জেলা ‘সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন মনে করেন, যে কোনো নির্বাচনে নতুন ভোটারটা একটা ‘ফ্যাক্টর’। তিনি বলেন, নতুন ভোটরদের মন নরম থাকে, তাদের কাছে সত্য-মিত্যা কোনো প্রতিশ্রুতি করা হলে তারা সহজে এতে বিশ্বাস করে। প্রার্থীরাও তাদের ভোট পেতে একাধিক বাস্তবায়ন ও অবাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি করে থাকে। কোন প্রার্থী কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই অনুযায়ী তারা নতুন প্রজন্মের ভোট পেতে পারেন বলে মনে করেন সনাকের সভাপতি। বস্তিবাসী ভোটারের বিষয়ে গাজী জাহিদ বলেন, বস্তিবাসীরা নানা অভাব-অনটনের মধ্যে থাকে, প্রার্থীদের থেকে তাদেরকে একাধিক লোভ-লালসা দেখানো হয়, প্রকৃতপক্ষে এসব কাজে আসে না বলে মনে হয়। নাগরিক সংগঠন সুজন’র জেলা সভাপতি আক্কাস হোসেন বলেন, যে প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে নগরের উন্নয়নে কাজ করবেন, যিনি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করবেন, সেই যোগ্য, সৎ ও নির্ভিক ব্যক্তিকে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা নির্বাচিত করবে।

 শহরের ৩৪ হাজার বস্তিবাসীর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদিও তারা সরকারি জায়গা-জমিতে থাকে তারাও আমাদের মতো সচেতন, এত সহজে তাদের মন গলানো যায় না। তারা এখন আগের মতো পয়সার বিনিময়ে ভোট দেয় না। সঠিক প্রার্থীকেই তারা বিজয়ী করবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গোলাম আব্বাছ দুলাল বলেন, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে, ডিজিটাল বাংলাদেশে তারা বসবাস করে। তারা তাদের যোগ্য ও তরুণ প্রার্থীকে ভোট দিবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বস্তিবাসীদের বিষয়ে তিনি বলে, আমাদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয় হলে এই নগরীর সকল মানুষের উন্নয়নে কাজ করবে, বিশেষ করে দরিদ্র ও বস্তিবাসীর সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা দাপট নিয়ে থাকে না, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কল্যাণে নগরীর উন্নয়ন করা হবে, কারণ তারা আমাদের ভবিষৎ সমাজের হাল ধরবেন। তিনি বলেন, এই শহরের বস্তিবাসীরা বেশি অবহেলিত।

 আমরা নির্বাচিত হলে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া, তাদের কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হবে। পলাশপুর, স্টেডিয়াম বস্তি, কেডিসি বস্তি, ভাটারখাল, বঙ্গবন্ধু কলোনি ও কলাপট্টিসহ বেশ কয়েকটি বস্তির বাসিন্দারা বলেন, রাজনৈতিক চাপ বা অর্থের বিনিময়ে কাউকে তারা সমর্থন দিবেন না। কেডিসি বস্তির বাসিন্দা শিরিনা আক্তার বলেন, টাকা দিয়া ভোট বিক্রি করা হবে না। যারা আমাদের উন্নয়ন করবে তারেই ভোট দিব। ভাটারখাল বস্তি এলাকার ভোটার আরজ মিয়া বলেন, আমরা কোনো রাজনীতি করি না, যে প্রার্থী আমাদের কথা শুনবে, আমাদের কাজ করার সুযোগ করে দিবে তার সাথেই আমরা আছি। এবার নথুল্লাবাদ থেকে নতুন ভোটার হয়েছে মো. ইব্রাহিম মিয়া। তিনি বলেন, যিনি আমাদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন, পাড়া-মহল্লার মানুষের দুর্দিনের সময় এগিয়ে আসবেন বলে মনে হয় তাকেই ভোট দিব।