বগুড়ায় কৌতূহলী মানুষ মাতালো অ্যাক্রোবেটিক শো

বগুড়ায় কৌতূহলী মানুষ মাতালো অ্যাক্রোবেটিক শো

স্টাফ রিপোর্টার : তর যেন আর সইছিলোনা। কখন শুরু হবে। কখন দেখতে পাব অ্যাক্রোবেটিক শো। একটু পর মাকে জিগ্যেস করছিল ছোট শিশু সিয়াম। সিয়ামের মত অধির আগ্রহ নিয়ে মা-বাবার পাশে বসে অ্যাক্রোবেটিক কী? কীভাবে খেলা দেখাবে ওই অতটুকু স্টেজে, এভাবেই প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জড়িত করছিল বগুড়া জিলা স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত অ্যাক্রোবেটিক শো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সারিতে বসে থাকা শিশুরা।
 
শিল্প সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়তে দেশব্যাপী কর্মসুচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং বগুড়া শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় গতকাল সন্ধ্যায় বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল এই অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। অনুষ্ঠান একটু দেরিতে শুরু হওয়ায় কৌতুহলি শিশুদের এমনসব প্রশ্নের মখোমুখি হতে হচ্ছিল মা-বাবাদের। প্রধান অতিথি হিসেবে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর পরই শুরু হয় প্রতীক্ষিত সেই অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। হাই ভলিয়মের মিউজিকের সাথে সাথে শিল্পীরা পর পর ১৩ টি অ্যাক্রোবেটিক পারফর্ম প্রদর্শন করে। প্রথমেই জলি সিমেন্স নামে একটি প্রদর্শনী দেখাতে মঞ্চে আসেন আটজন যুবকের একটি দল। তারা একটি বাঁশজাতীয় লম্বা লাঠির ওপরে একসাথে সবাই ওঠে-বসে-শুয়ে বিভিন্ন কসরত প্রদর্শন করে। এরপর হান্ট স্কিন পারফর্ম করতে মঞ্চে আসেন তিনজন মেয়ে এবং একটি ছেলের দল। তারা হাতের মাধ্যমে ব্যালান্সের বিভিন্ন খেলা প্রদর্শন করে। এরপর পর পর ছেলে-মেয়ে এবং শিশুদের নিয়ে প্রদর্শিত হয় আন্কারা-সা, মাউথ স্কিল, মুখাভিনয়, ব্যারেল ব্যালেন্স, আরও অনেক চাইনিজ নামের খেলা এবং অভিনয়। তবে শিশুরা বেশি আনন্দ পেয়েছে সার্কাস দলে যেমন সং সেজে জোকার হয়ে মজার মজার অভিনয় দেখতে। এরপরে ব্যারেল ব্যালান্স খেলায় একজনের পায়ের পাতায় ড্রামের ওপর একটি শিশুর নাচ এবং শরীরের ভারসাম্য রেখে স্থান পরিবর্তন করে তার সাথে খেলা ।

একটি খেলা শেষ হওয়ার পরপরই করতালিতে মুখর হয়ে উঠছিল গোটা জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ। অনেককেই বলতে শোনা গেছে যদি আমাদের দেশের অবহেলায় থাকা সার্কাসের শিল্পীদের এর সাথে যুক্ত করা হতো, তবে এই শিল্পের সাথে থাকা শিল্পীরা আরও ভাল কিছু উপহার দিতে পারতো এবং তাদের দৈন্যতা কাটতো।অ্যাক্রোবেটিক দলের উল্লেখযোগ্য একজন সদস্য ঢাকার জেলার রাজবাড়ীর সঞ্জয় ভৌমিক বলেন, তারা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ বছর এবং চীনে অ্যাক্রোবেটিকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি জানান মূলত দেশীয় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই বাংলাদেশ সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মালেক, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল হাসান রিপু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ।