নিরাপদে যাত্রায় বাড়তি ভিড় ট্রেনে

নিরাপদে যাত্রায় বাড়তি ভিড় ট্রেনে

ঈদের টিকেট বিক্রির দ্বিতীয় দিনেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ১৮ অগাস্ট শনিবার ঈদযাত্রার আগাম টিকেট নিতে বুধবার সকালেই স্টেশনে এসেছেন অনেকে। কেউ প্রত্যাশিত টিকেট পেয়েছেন, কেউ না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের টিকেটের জন্য আগের রাত ৯টায় কাউন্টারে এসেছেন উত্তরার একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৮টার দিকে প্রত্যাশিত টিকেট পান তিনি।

তানভীর  বলেন, “সড়ক এখন আর নিরাপদ নাই। এজন্য ট্রেনে যাতায়াত করি। সময় কম লাগে। এছাড়া বাড়তি কোনো ঝামেলাও নেই।”

বেশি ভিড় দেখা গেছে উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন রুটের ট্রেনে। অনেকে বুধবার সকাল থেকে এসে কাউন্টারের সামনে বসে আছেন প্রত্যাশিত টিকেটের জন্য।

রাজশাহীর যাওয়ার ট্রেনের টিকেট নিতে বুধবার দুপুরে কাউন্টারে এসেছেন মোহসিন আলী। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৮টায় টিকেট পেয়েছেন তিনি। তবে যে ট্রেনের টিকেট চেয়েছেন তা পাননি।

“আমার সিরিয়াল নম্বর ১৩। আমি পদ্মা অথবা সিল্কসিটি ট্রেনের এসি টিকেট চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। আমাকে ঈদ স্পেশালের টিকেট দিয়েছে। তাও ভালো টিকেট তো পেলাম।”

তবে ১৩ নম্বর সিরিয়ালের টিকেট প্রত্যাশী এসি টিকেট পাওয়ার পরই রাজশাহীর সব ট্রেনের এসি টিকেট শেষ হয়ে যায়।  গতকাল দুপুর থেকে অপেক্ষা করেও এসি টিকেট না পেয়ে ক্ষোভ জানান জাবের সরকার নামে এক কলেজছাত্র।

“এসি টিকেটের আশায় কাল দুপুর থেকে এখানে এসে বসে আছি। কিন্তু টিকেট পেলাম না। রাজশাহীর দুইটা ট্রেনের প্রায় ৪০০ টিকেট আছে এসি। কিন্তু ১৫ নম্বর সিরিয়ালের আগেই কীভাবে শেষ হয়ে যায়?

“রেলওয়ে আমাদের সঙ্গে রীতিমতো অন্যায় আচরণ করছে।”

জামালপুরের তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের জন্য বুধবার দুপুরের পর কাউন্টারে এসেছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করা ওয়াহিদুজ্জামান অলি; সঙ্গে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট ভাই রাহাত হোসেন অনয়।

অনেক প্রতীক্ষার টিকেট পেয়ে খুশি দুই ভাই।

“প্রথমে জামালপুর, ইসলামপুরের এসি কেবিন চাইলাম, পেলাম না। পরে এসি চেয়ার দিয়েছে, তাও দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। পেয়েছি তাতেই অনেক খুশি। বাবা-মার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করবো।”

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে কাউন্টারে এসেছেন বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে। স্ত্রী শিউলি নারী কাউন্টারের সামনের দাঁড়িয়ে আছেন। প্রচণ্ড গরমে ঘামছেন তিনি, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন ইকবাল।

তিনি বলেন, নারীদের কাউন্টারে টিকেট পাওয়া সহজ। এজন্য স্ত্রীকে দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

“দিনাজপুরের দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কিনব। বাসে যেতে পারি না, যানজট, ভোগান্তি বেশি। নিরাপত্তার বিষয়টিও আছে। এজন্য কষ্ট করে হলেও ট্রেনে যাই।”

বৃহস্পতিবার ঈদের পাঁচটি বিশেষ ট্রেনের অগ্রিম টিকেট দেওয়া শুরু হয়েছে। আজ কাউন্টার থেকে ২৬ হাজার ৮৯৫টি টিকেট বিক্রি হচ্ছে।

বেলা সোয়া ৯টার দিকে স্টেশনে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন। স্টেশনে টিকেট বিক্রি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

আমজাদ হোসেন বলেন, গত ঈদের তিনদিন আগে থেকে বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু করলেও এবার ঈদের চারদিন আগে থেকে বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা জানি সড়কপথে কিছু সমস্যা আছে। এছাড়া লোকজন ঈদের সময় ট্রেনে যেতে পছন্দ করে। এজন্যও বাড়তি একটা চাহিদা থাকে। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকুই আমরা দিচ্ছি। দূরবর্তী যাত্রীরা সবাই যেতে পারবেন।

“তবে রাজশাহী, খুলনা, লালমনিরহাট, রংপুর, জামালপুর রুটের ট্রেনে চাহিদা বেশি থাকে।”

স্বাভাবিক সময়ে বিভিন্ন ট্রেনে এক হাজার ১৮০টি কোচ থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে এবার এক হাজার ২৪৯টি কোচ যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানান তিনি। আন্তঃনগর, মেইল, এক্সপ্রেস ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিন ৩১টি ট্রেন চলাচল করবে।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, যাত্রীদের সবাই এসি টিকেট চায়। এজন্য চাহিদা বেশি।

“আমাদের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এজন্য ইদানিং এসি টিকেটের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের এসি টিকেট পর্যাপ্ত না। এ কারণে লোকজন টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ করে।”