নাটোরে জঙ্গি আস্তানা থেকে ৪ জেএমবি সদস্য আটক

নাটোরে জঙ্গি আস্তানা থেকে ৪ জেএমবি সদস্য আটক

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চার জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় ওই আস্তানা থেকে পাঁচটি হাতবোমা, দুই লিটার পেট্রোল, আটটি সাংগঠনিক বই, কিছু সিডি, ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) ভোর ৪টা থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে উত্তরা গণভবন সংলগ্ন একটি বাড়ি ঘিরে রাখে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ সদস্যরা। এতে নেতৃত্ব দেন পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
 
একপর্যায়ে ওই বাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এতে সাড়া না পেয়ে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আস্তানায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। এসময় পুলিশ নয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘণ্টা খানেক পর জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করেন।
 
আটক ব্যক্তিরা হলেন- জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার চাপাপুকুর গ্রামের মৃত শুকুরের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৪), একই গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত ভিকু মণ্ডলের ছেলে ফজলুর রহমান ফজলু (৩৮), সিংড়া উপজেলার আরকান্দি পশ্চিমপাড়ার ইউনুস আলী মিয়ার ছেলে আনিসুর রহমান আনিস (৪০) ও নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়া গ্রামের ফজলার রহমানের ছেলে জাকির হোসেন (৩৮)।
 
পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া গ্রামের উত্তরাগণভবন সংলগ্ন এক বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। বাড়ির মালিক ইকবাল সিকদার দুবাই প্রবাসী।

পুলিশ সুপার আরো জানান, মাস খানেক আগে আমির হামজা নামে দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের এক ছাত্র ও স্কাউট সদস্য ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। আগে ওই বাড়িতে কেউ থাকতেন না। স্থানীয় রফিক সিকদার নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দেখাশুনা করেন।

তার কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন আমির হামজা। কিছুদিন ধরে ওই যুবকরা সেখানে বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানে আমির হামজা নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের আমির হামজাসহ আরো কয়েকজন পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।