ডাক্তারের অবহেলায় শিশু রাইফার মৃত্যু তদন্তে প্রমাণিত

ডাক্তারের অবহেলায় শিশু রাইফার মৃত্যু তদন্তে প্রমাণিত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নগরের মেহেদিবাগের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের মেয়ে রাইফা খানের মৃত্যু হয়েছে ডাক্তারের অবহেলায়-এমন প্রমাণ পেয়েছে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি। গতকাল শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটিতে থাকা এক সমস্য। ওই সদস্য  বলেন, তদন্তে ডাক্তারের গাফিলতির কারণে শিশু রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর অনুলিপি বিএমএ সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে : নগরের মেহেদিবাগের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে আড়াই বছরের শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ‘শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং ঐ সময় থাকা সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই ছিল না। শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফাকে অসুস্থতার জন্য ম্যাক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের ভোগান্তি চরমে ছিল।

 শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতা-মাতা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি প্রকট। চিকিৎসক নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয়হীনতা ও চিকিৎসাকালীন মনিটরিংয়ের অভাব দেখা যায়। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল রয়েছে, বিশেষত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির সংকটটি প্রবল।’ তদন্ত কমিটিতে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ।

চারটি সুপারিশ : ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ম্যাক্স হাসপাতালের সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অতিদ্রুত সংশোধন করা অপরিহার্য। কর্তব্যরত নার্সগণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী থাকার নিয়ম থাকলেও উক্ত হাসপাতালে তা নেই। ডিপ্লোমা নার্স দ্বারা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীর অভিভাবককে যথাসময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসর ব্যাপারে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবগত করতে হবে।’