* কালো টাকার শঙ্কা খালেকের * ডাকাতির আশঙ্কায় মঞ্জু

জাতীয় নির্বাচনের আবহ খুলনায় ভোট মঙ্গলবার

জাতীয় নির্বাচনের আবহ খুলনায় ভোট মঙ্গলবার

খুলনা প্রতিনিধি : সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনায় এখন বিরাজ করছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ; ভোটের পরিবেশ নিয়ে নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতিতে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বছরের এই সিটি নির্বাচনের দিকে এখন সবার নজর। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার- সবার কাছে এ নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আরও চার সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে ভোট কেমন হবে এখান থেকেই তার আভাস মিলবে।

১৫ মে মঙ্গলবার দলীয় প্রতীকে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট হবে। তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়রপ্রার্থী রয়েছে। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন যোগ দেওয়ার পর গেল বছর কুমিল্লা ও রংপুর ভোট করে সব মহলের প্রশংসা কুড়ায়। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিশনের অধীনে আরও ভালো নির্বাচনের আশা রাখেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, কুমিল্লা ও রংপুর সিটির ভোটের চেয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনের গুরুত্ব এখন অনেক। গাজীপুরের ভোট বিল¤ি॥^ত হওয়ায় খুলনা নিয়ে দুই দলের চাপেই থাকতে হচ্ছে কমিশনকে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপি পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করার পাশাপাশি ইসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ‘এখন আরও চারটি সিটি ভোট বাকি; তারপর সংসদ নির্বাচন। সিটি ভোটেই এখন জাতীয় নির্বাচনের আবহ। দলীয় প্রতীকে হওয়ায় খুলনার ভোট দেখেই মানুষের কাছে মেসেজ যাবে পরের ভোট কেমন হবে। কমিশনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এটি’। সংসদ নির্বাচনের আগে সবার নজর নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে সঠিক পথে এগোনোর পাশাপাশি সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা- উল্লেখ করেন ইডব্লিউজি পরিচালক।

আব্দুল আলীম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ নির্বাচন হবে আশা করি। অনিয়ম থাকলে বা সুষ্ঠু ভোট না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব থাকবে সবমহলে। স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও শুধু খুলনার জয়-পরাজয়কে নিয়ে সংসদ নির্বাচনের আভাস দেওয়া সঠিক হবে না। তবে আস্থা ও পরিবেশ তৈরির পথে আরও একধাপ অগ্রগতি হবে। বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান জানান, ভালো ও যোগ্য প্রার্থী থাকায় খুলনায় নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। নির্বাচন কমিশনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ এ নির্বাচনটি ভালোভাবে সম্পন্ন করার। তিনি বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। ইসির সদিচ্ছা ও ক্ষমতার প্রয়োগ মানুষ দেখতে চায়। ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে পারলে সামনে ভোটার, দল ও প্রার্থীর কাছে ইসির পজিটিভ ইমেজ আরও বাড়বে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ইসির খুব সিরিয়াসলি দেখা উচিত। এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সমান সুযোগ না পাওয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- দুদলই কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে এমপি-মন্ত্রীরা প্রচারে নামতে না পারলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে চষে বেড়াচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার হওয়ায় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলে তাদের শঙ্কা। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, খুলনার পুলিশ কমিশনার তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারকে প্রভাবিত করতেই ইসির যুগ্মসচিবকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দলগুলো পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু কমিশন ভালো নির্বাচন করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ যে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি। হেলালুদ্দীন বলেন, ‘এখন সবার নজর খুলনায়। এনিয়ে সবার আগ্রহ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে দল, প্রার্থী, ভোটার ও গণমাধ্যম তা পর্যবেক্ষণ করছে। সেনা মোতায়েনের পক্ষে-বিপক্ষে দলগুলো বক্তব্য দিলেও কমিশন শুরুতেই বলে দিয়েছে, স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে। তাদের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় রয়েছেন। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার উপ সচিব ফরহাদ হোসেন জানান, ১২ মে শনিবার রাত ১২টার মধ্যে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়তে হবে। সংশ্লিষ্ট সিটির ভোটার নন এমন ব্যক্তিদের ওপর নির্ধারিত সময়ের পরে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা শেষ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রোববার রাত ১২টা থেকে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। সোমবার প্রথম প্রহর থেকে ভোটের পরে আরও ৪৮ ঘণ্টা সব ধরনের মিছিল, শোডাউন, আনন্দ মিছিল বন্ধ থাকবে আচরণবিধি অনুযায়ী। খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে ১৩ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত থাকবেন। ভোটের আগের দিন সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা থাকেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ২২-২৪ জন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে খুলনা সিটিতে তিন ধাপে নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের আগে-পরে চার দিন বিচারিক হাকিম রয়েছে মাঠে। খুলনায় ভোটের দিন নির্বাহী হাকিম থাকবেন ৪৯ জন ও বিচারিক হাকিম ১০ জন। পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ান নিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ১০টি টিম; র‌্যাবের ৩১টি টিম; বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ৩-৪ প্লাটুন অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন রাখা হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি প্লাটুন গঠন করা হয় ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য নিয়ে। ভোটের মাঠে প্রতি প্লাটুনে কতজন থাকবেন তা এলাকা অনুযায়ী ঠিক করা হবে। ইসির নিজস্ব পর‌্যবেক্ষক থাকবেন ১০ নির্বাচন কর্মকর্তা।

এক নজরে খুলনা সিটি নির্বাচন
সাধারণ ওয়ার্ড ৩১টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০টি। প্রতিদ্বন্দ্বী: মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন। মেয়র প্রার্থী ও প্রতীক: আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা), সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল)। কেন্দ্র ও ভোটকক্ষ: ২৮৯টি ভোট কেন্দ্র, তাতে ভোট কক্ষ ১৫৬১টি। ভোটার: ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও মহিলা ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ইভিএমে ভোট হবে দুই কেন্দ্রে। ১০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ইভিএম থাকবে। তাতে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ভোট দেবেন ভোটাররা। ২৪ ন¤॥^র ওয়ার্ডের ২০৬ ন¤॥^র কেন্দ্র ও ২৭ ন¤॥^র ওয়ার্ডের ২৩৯ ন¤॥^র কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে। শেরেবাংলা রোডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০৯৯ জন ভোটারের জন্য ৪টি ভোটকক্ষে ও খানজাহান আলী রোডের পিটিআই জসিম উদ্দীন হোস্টেলের নিচতলার কেন্দ্রে ১৮৭২ ভোটারের জন্য ৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে।

২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটিতে এবং খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে ১৫ জুন ভোট হয়। খুলনার পর বাকি থাকছে চার সিটির ভোট। গাজীপুরের ৪ সেপ্টে¤॥^র, সিলেটের ৮ অক্টোবর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর ও বরিশালের ২৩ অক্টোবর মেয়াদ ফুরোচ্ছে। ২০১৩ সালে পাঁচ সিটিতেই বিএনপিসমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন। ৫ বছর আগে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও এবার মেয়র পদে দলীয়ভাবে ভোট হবে। চলতি বছরের নভে¤॥^র-জানুয়ারির মধ্যে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এজন্যে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ সিটির ভোট শেষ করার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন সিইসি নূরুল হুদা।

কালো টাকার শঙ্কা খালেকের
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ‘নিশ্চিত জয়ের’ প্রত্যয় জানানোর পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট ডাকাতির’ পরিকল্পনা চলছে বলে তার মনে হচ্ছে। ভোটের আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারের শেষ দিন রোববার নগরীর ৩১ ন¤॥^র ওয়ার্ডের দৌলতপুর এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে তিনি বলেন, “উনি যদি নিজেকে মেয়র দাবি করে থাকেন, তাহলে তো উনার দুরভিসন্ধি আছে; উনারা ভোট ডাকাতি করবে, কিংবা কালোটাকা ছড়াইয়া তারা কিছু একটা করবে। না হয়, এতো শিওর হয় কীভাবে? এতো কনফার্ম সে কীভাবে হয়, আমি মেয়র হবই? নিশ্চয় তাদের উদ্দেশ্য খারাপ, এই শহরে কালোটাকা ছড়ানোর চেষ্টা তারা করতেছে। অতএব এটা প্রতিহত করা হবে। ২০০৮ থেকে পাঁচ বছর খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করা তালুকদার খালেক ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এবার বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে তিনি আবারও মেয়র পাদে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তালুকদার খালেক বলেন, আমি তো মেয়র ছিলাম একসময়।

জনগণ যাকে ভোট দিয়ে বানাবে সেই মেয়র হবে। জনগণের উপর আস্থা রাখতে হবে। খুলনার মানুষ ভোট দেবে। আমাদের অসমাপ্ত কাজ করতে সমর্থন দেবে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সন্তুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের এখন পর্যন্ত যে কর্মকান্ড, তাতে এখন পর্যন্ত বিতর্কিত কিছু আমার চোখে পড়ে নাই। আমি মনে করি, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের যা যা করণীয় তারা সে কাজটি করেছে। আমি মনে করি, একটু অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই ব্যবস্থা যথেষ্ট। বিএনপির পক্ষ থেকে ‘গণগ্রেপ্তারের’ যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা উড়িয়ে দেন তালুকদার খালেক। তাদের কোনো কর্মী মাঠে কাজ করেছে এমন আমার সঙ্গে দেখা হয় নাই। গোপনে গোপনে কাজ করতে পারে, অমূলক সন্দেহটা তারা ২০১৩ সালেও করেছে। এবারও আমি মনে করি, জনগণ তাদের কোনো কথার মূল্য দেবে না। রোববার সকালে ৩১ ন¤॥^র ওয়ার্ডের দৌলতপুর ছাড়াও দফাদারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন নৌকার প্রার্থী তালুকদার খালেক।

ভোট ডাকাতির আশঙ্কায়  মঞ্জু
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।  রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় মহানগরীর মিয়াপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকার কেসিসির ভবিষ্যৎ নগর পিতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করছে। কেসিসি নির্বাচন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা হলেও ইতোমধ্যেই তারা ফেল করেছে। তিনি জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে না নিয়ে নগর পিতা নির্বাচিত করার পরিবেশ তৈরি করতে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। মঞ্জু বলেন, সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। জনগণ ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনাও ছিল। নগরবাসীরও স্বপ্ন ছিল ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার। কিন্তু সরকারের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের আয়োজনে সবকিছুই ভেস্তে যেতে বসেছে।

এক্ষেত্রে পুলিশের অতি উৎসাহী ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা ভোট ডাকাতির নির্বাচনের আয়োজনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, টুটপাড়া, লবণচরা ও বানিয়াখামারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই চরমপন্থি-সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা এসব এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছে। আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ধরে রাখা, ভোটের আগের রাতে বোমাবাজি করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নেতাকর্মীদের ওপর আরও কঠিন আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা মহানায়কের ভূমিকা পালন করছে। সরকার বিএনপিকে বাইরে রেখে এক দলীয় নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেসিসির শতভাগ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখনও সময় আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে এখনই সব ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করুন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অবস্থান করে অতদ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজেও শঙ্কামুক্ত নন। সাতদিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। শনিবার রাতেও হাজার হাজার কর্মীর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। নতুন করে আরও ১১ জনসহ দু’ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজেন্ট এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতে গোটা নগরীতে আতঙ্ক ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নগরবাসী সার্বিক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারপরও নগরবাসী ধানের শীষে ভোট দিয়ে আওয়ামী দুঃশাসনের সাড়ে নয় বছরের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। মঞ্জু বলেন, ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখানো হচ্ছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পুলিশ বাড়িতে পাঠিয়ে নেতাকর্মীদের পরিবারের নারী সদস্যদের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এজন্য সরকার, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কেউ দায় এড়াতে পারবে না।

১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে বিজিবি সদস্যরা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহলসহ নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিষয়টি বিজিবি খুলনা সেক্টরের টুআইসি মেজর হান্নান খান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ প্লাটুন (৬৪০জন) বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। ১৫ মে (মঙ্গলবার) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।