চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ধস

চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ধস

চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্রবৃদ্ধিতে ধস নেমেছে। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই খাতকে ২০১৭ সালে বর্ষপণ্য ঘোষণা করা হলেও তেমন অগ্রগতি নেই। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। আর ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এ খাতের রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। অথচ গত অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ডলার। সেই বিচারে প্রকৃত আয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১.৩৪ শতাংশ কম। বিশ্বে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুবই কম। এ ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা পরিবেশগত ক্ষতি ও নেতিবাচক শ্রম পরিবেশ। সরকারের নীতি নির্ধারকরা এর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সেই অনুসারে রাজধানী থেকে সাভারের চামড়া পল্লীতে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়।

তবে ২০০৩ সালে চামড়া শিল্পের কাজ শুরু হলেও সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি চামড়ার জোগান আসে ঈদের সময়। কিন্তু পানির দরে চামড়ার সংগ্রহ মূল্য হওয়ায় চামড়া বাইরে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বে চামড়ার বাজারে বাংলাদেশের অংশ এক শতাংশও নয়। সেই বাজারটিও আমরা ধরে রাখতে পারব না? এত দিনেও কেন সাভারের চামড়া পল্লীতে সিইটিপি পুরোপুরি চালু হবে না, অবকাঠামো ঠিক হবে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।