চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড়ের তিতলির প্রভাবে ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামের দুই জায়গায় পাহাড় ও দেয়াল ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার রাত ২টার দিকে আকবর শাহ এলাকার ফিরোজ শাহ কলোনির বরিশাল ঘোনায় পাহাড় ধসে ঘরের উপর পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়।

তার আগে রাত ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন রহমান নগর এলাকায় দেয়াল ধসে নিহত হন আরেকজন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফিরোজ শাহ কলোনির দুটি কাঁচা ঘরের ওপর পড়লে তিনজন মাটিচাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ভোরের দিকে মাটি সরিয়ে তারা বের করেন তিনজনের লাশ।

নিহত তিনজন হলেন, স্থানীয় নূর মোহাম্মদের স্ত্রী নূরজাহান (৪৫), তাদের আড়াই বছরের মেয়ে ফজরুন্নেছা এবং নূরজাহানের মা বিবি জোহরা (৬৫)।

নূর মোহাম্মদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তির হাট এলাকায়। আর বিবি জোহরার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জে। চট্টগ্রামে তিনি মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।

সকালে ঘটনাস্থলে নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, টানা বৃষ্টি চলায় বিপদ বুঝে তিনি রাতে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। সব শেষে স্ত্রী-শাশুড়িকে সরিয়ে নেবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু তার আগেই পাহাড় থেকে মাটির স্তর নেমে আসে।

পাঁচলাইশের ঘটনায় নিহত নুরুন্নবী নান্টু (৪৫) পেশায় ছিলেন রিকশাচালক, বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। চট্টগ্রামে রহমান নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার পাশে একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে পাহাড়ের ঢালে থাকা একটি গাছের শিকড় উপড়ে গেলে সেটি সীমানা দেয়ালের ওপর পড়ে। তখন ওই দেয়াল ও গাছ পাশের ঘর ভঙে ভেতরে গিয়ে ঢোকে।

গুরুতর আহত নান্টুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।