* জামানত বাজেয়াপ্ত ৩ প্রার্থীর * জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে : কাদের * খুলনার ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির * খুলনায় অনিয়ম ছিল, তবে ফল বদলে দেয়ার মতো নয় * খালেকের বাগেরহাট-৩...

খুলনায় ভোট পড়েছে ৬২.১৯%

খুলনায় ভোট পড়েছে ৬২.১৯%

করতোয়া ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬শ’ ৩৬ ভোটার। ভোট পড়ার হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. ফরহাদ হোসেন মাঠ পর্যায় থেকে ফলাফল সংগ্রহের পর সমন্বয় করে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮শ’ ৫১ ভোট। বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২শ’ ৫১ ভোট।অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭২ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু পেয়েছেন ৫৩৪ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরর প্রার্থী মো. মুজাম্মিল হক পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩শ’ ৬৩ ভোট। এক্ষেত্রে সকল প্রার্থীর পক্ষে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৭১ ভোট। বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ৫শ’ ৬৫ ভোট। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৬শ’ ৩৬ ভোট।  নির্বাচনী অনিয়মের কারণে খুলনা সিটি ভোটের তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই তিনটি কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৮শ’ ৩১।

জামানত বাজেয়াপ্ত: নির্বাচনে আট ভাগের এক ভাগ ভোটের কম পাওয়ায় তিনটি দলের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুজাম্মিল হক। খুলনা সিটিতে প্রদত্ত ভোটের আটভাগের এক ভাগ ৩৮ হাজার ৩’শ ৩০টি ভোট। ওই তিন প্রার্থীর কোনো প্রার্থীই এই সংখ্যক ভোট পাননি। এসব প্রার্থী ২০ হাজার টাকা করে জামানত হারিয়েছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, ৫ লাখের কম ভোটার সংখ্যা হওয়ায় প্রার্থীদের ২০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে : কাদের
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল যারা প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এতো প্রমাণ হলো বিচার বিভাগ স্বাধীন। বুধবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল থাকার প্রতিক্রিয়া তিনি এ কথা বলেন। কাদের বলেন, বিএনপি নেত্রীর জামিন প্রমান করে আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। কাদের বলেন,বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক। সবাই বলছে একটা ভালো নির্বাচন হয়েছে। দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। শুধু একটা দল এর বিরোধিতা করছে, সেই দলটি বিএনপি। এই দলের নামই হচ্ছে মানি না, মানব না। মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টির ঘোষিত ফল অনুযায়ী, খালেকের এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৯১ ভোটের বিরপীতে মঞ্জু পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। অন্তত একশ কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতেই সেসব কেন্দ্রের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জু।আর দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেন।

এর সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন খুলনার জনগণ ভোট দিয়েছে খালেককে, তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেস ব্রিফিং করে মিথ্যাচারের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজানো আর বিদেশিদের কাছে নালিশ দেওয়া ছাড়া তাদের করার কিছু নাই। তিনি বলেন, আজকে খুলনা সিটি নির্বাচন যারা প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণের ভোট যারা প্রত্যাখ্যান করেছে, জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাওয়ায় এ অনুষ্ঠানে সেতৃমন্ত্রী কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে কাদের বলেন, আদালত সাজা দিয়েছে, আদালত জেলে পাঠিয়েছে, আদালতই তাকে জামিন দিয়েছে। সেখানে আমাদের বলার কিছু নাই। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানের পরিবর্তন হবে না।বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা যে ‘স্বাধীন’, আপিল বিভাগের জামিনের রায়ে তা ‘আবারও প্রমাণিত হল’ বলে দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক রাশেদা আক্তারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সাংসদ কামাল আহম্মেদ মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

খুলনার ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। সেইসঙ্গে সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি। বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোটের ফল নিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, ভোট-ডাকাতি, ভোট-সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয়নিশানে হাওয়া লাগে না। খুলনা সিটি নির্বাচনে নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতার প্রদর্শন হয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভোটের দিন নৌকার প্রার্থীর লোকজনদের ছিল সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা। গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) লাইন ধরে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট প্রদান করে। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ভোট কাস্টিংয়ে সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে। ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি গুরুতর অসুস্থ দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা ও তার মুক্তির দাবি জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম, ড্যাব নেতা ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

খুলনায় অনিয়ম ছিল তবে ফল বদলে দেওয়ার মতো নয় : ইডাব্লিউজি
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটি মোর্চা; তবে তারা বলছে, এসব অনিয়ম না ঘটলেও ভোটের ফলাফল একই থাকত। খুলনায় নির্বাচনের পরদিন বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি)। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক প্রায় ৬৬ হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে  দেন। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই সিটি করপোরেশনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত করতে হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ১৯। ইসি ভোট নিয়ে  সন্তুষ্ট থাকলেও পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১০০টি কেন্দ্রে পুনর্র্নিবাচন দাবি করেছেন। নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ইডাব্লিউজির পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা এবং নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও বেশ কিছু কেন্দ্রে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের জন্য সহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন ওই সব ঘটনার ব্যাপকতা বেশি না হওয়ায় তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো অনিয়ম না হলেও তালুকদার খালেকই বিজয়ী হতেন। মোট ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১৪৫টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে নিজেদের প্রতিবেদন দিয়েছে ইডাব্লিউজি। আলীম বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষক দল ৩২ শতাংশ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা দেখতে পেয়েছে; এর মধ্যে অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সংগঠিত সামান্য সহিংসতা, ভোটকেন্দ্রে অননুমোদিত মানুষের উপস্থিত এবং ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধার মতো ঘটনা ঘটেছে।

ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষণে অনিয়ম : অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ২৮টি কেন্দ্রে, বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের ঘটনা ৪টি, ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে সহিংসতার ঘটনা ১৬টি,ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ১৮টি, ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে প্রার্থীদের যানবাহন দেওয়ার ঘটনা ১৭টি, পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ৪টি এবং ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ১০টি। অনিয়মে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার, ১০টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সাতটিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। আলীম বলেন, এসব ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ভোট গণনা শুরু, ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ নিশ্চিত করা, গণনার আগে সব ব্যালট বাক্সে নিরাপত্তা সিল লাগানো ছিল। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট দেখতে পেয়েছে ইডাব্লিউজির পর্যবেক্ষকরা। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের পোলিং এজেন্টদে থাকতে দেওয়া হয়নি, সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ সরকারি দলের হয়ে কাজ করেছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন ছিল- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে আলীম বলেন, ‘তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে যেসব ঘটনায় প্রার্থীদের পক্ষ অবল¤॥^ন করেছে, সেগুলোর মাত্রা ছিল ছোট।

নির্বাচন একেবারে শান্তিপূর্ণ বা একেবারে বিশৃঙ্খল বলার সুযোগ নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির আরেক পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বেশ কিছু ঘটনা আমরা হাজির করেছি। এসব ঘটনা তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে ভবিষতে নির্বাচনে যাতে এ ধরনের কোনো ছোট বা বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তুলেছে। তারা বলছে, খুলনার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এই ইসির অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে বা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে শপথ তারা ভঙ্গ করেননি। সেসব কেন্দ্রে জাল ভোট হয়েছে, সেগুলো তারা আমলে নিয়েছে এবং কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউজির অংশীদার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের কো-অর্ডিনেটর আ হ ম ফয়সাল, আরেকটি অংশীদার সংগঠনের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান জমাদার উপস্থিত ছিলেন।