ক্ষমতা শুধু ভোগের নয় ত্যাগেরও : প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতা শুধু ভোগের নয় ত্যাগেরও : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা শুধু ভোগের জন্য নয়, ক্ষমতা ত্যাগেরও বিষয়। মানুষের জন্য দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই মূল বিষয়। তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খন্ডে প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খন্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৪টায় বইটির সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী এ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন।ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। এ ছাড়া হাক্কানী পাবলিশার্স-এর প্রকাশক গোলাম মোস্তফা, আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ক্রিয়েটার নজরুল ইসলাম খান।

 জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছাট মেয়ে শেখ রেহেনা, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ছিলেন অনুষ্ঠানে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইিজপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি  অতিথি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পারেনি। দিন যতই যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস ততো সমৃদ্ধ হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে পাকিস্তানের অনেক নাগরিক বলছে, এদেশকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।

 তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু সংগ্রাম করে গেছেন। তার সংগ্রাম ছিল এ দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল সে বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বার বার জেল খেটেছেন, বারবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল এই দুই বছরে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খে  প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খে র মোড়ক উন্মোচন করা হলো। তারা বঙ্গবন্ধুর চলাফেরা, গতিবিধির বিপক্ষে যে সমস্ত নোট দিয়েছেন সেগুলো সমৃদ্ধ করে বই প্রকাশ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত আমরা বাকি খ গুলোও প্রকাশ করতে চাই। এ প্রকাশনার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে তথা সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা শুধু ভোগের জন্য নয়, ক্ষমতা ত্যাগেরও বিষয়। মানুষের জন্য দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই মূল বিষয়। বাংলাদেশ ২১০০ সালে কেমন হবে সেটা মাথায় রেখে আমরা ১০০ বছরের পরিকল্পনা করছি। যে গতিতে বাংলাদেশ এগুচ্ছে তাতে আগামী ৪১ সালে এই বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বাস করি। উলেখ্য, ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নামে স্পেশাল ব্রাঞ্চে খোলা ব্যক্তিগত ফাইলে সংরক্ষিত ডকুমেন্ট সংকলন করা হয় ১৪ খে র এ বইটিতে। তথ্যগুলো তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশ আইবির রুটিন কাজের অংশ হিসেবে সংগ্রহ ও সংরক্ষিত হয়েছিল।

 বইটিতে স্থান পেয়েছে ভাষা আন্দোলন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তকরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, তার বক্তব্য বিবৃতি, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার, কারাবরণ, কারাগারে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎ ইত্যাদি। বইটির প্রথম খ  ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত হলেও এ খে  ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পূর্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা ও মানবদরদি মনের পরিচয় পাওয়া যায়। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামী জীবনের প্রথম দিকের জানা-অজানা অনেক তথ্যের সন্নিবেশ ঘটেছে এ খ টিতে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের। উৎসর্গ পত্রে লেখা আছে- ‘বঙ্গবন্ধু তার সংগ্রামী জীবনের সকল সহযোদ্ধাদের প্রতি...’। বইটি প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স। প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার। প্রতিটি খে র প্রচ্ছদের ডিজাইন একই। ৫৮২ পৃষ্ঠা সম্বলিত প্রথম খে র মূল্য ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খন্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।