কিছুতেই যেন কাটছে না রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ

কিছুতেই যেন কাটছে না রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : বৃষ্টি, রোদ-গরম আর নানা রোগের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের জীবন। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরগুলোর অধিকাংশই নড়বড়ে; বৃষ্টি বা একটু জোরে বাতাস হলেই ভেঙে বা ধসে পড়ার উপক্রম। এই অবস্থায় আতঙ্ক আর ভীতিতে দিন কাটছে রোহিঙ্গাদের। এছাড়া ক্যাম্পে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় অনেকেই ডায়রিয়ার আক্রান্ত হচ্ছেন। রয়েছে ঠাণ্ডা- জ্বর, কাশি। ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ। রোহিঙ্গা ও বিভিন্ন এনজিওকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিতদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ একরাম বলেন, ‘জাদিমুরা শিবিরটি পাহাড়ের পাদদেশে, তাই ভারী বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ বেড়ে যায়, বাড়ে কষ্ট। ঝুপড়ি ঘর ছেড়ে মাঝে মধ্যে অন্যের ঘরে থাকতে হয়। বৃষ্টি ও পাহাড়ের ঢল নেমেআসে ঘরের ভেতর। এতে রান্নার চুলা জ্বালাতে কষ্ট হয়ে পড়ে।

 এছাড়া ক্যাম্পে বিদ্যুৎ নেই, গরমের মধ্যে কষ্ট হয়।’ টেকনাফের মৌচনি ক্যাম্পের জামাল হোসেন মাঝি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কষ্টের মাত্রা বেড়ে যায়। এই ক্যাম্পে পানি জমে ঘরে ভেতর ঢুকে পড়ে। ক্যাম্পে ওষুধের সংকট সবচেয়ে বেশি। বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকায় অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছে ঠাণ্ডা- জ্বর, কাশি। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিম্ন ধরনের চর্মরোগ। পোশাক সংকটে পড়েছেন নারী ও শিশুরা।’ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মী মোহাম্মদ সোহেল ইসলাম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পের কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢলের পানির সঙ্গে ময়লা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা একাকার হয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনা নির্যাতনের ফলে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। পুরোনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।

 এদিকে উখিয়া-টেনাফের দুই পাশে পাহাড় ও বন কেটে বেশিরভাগই বসতি গড়েছেন তারা। এর মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা ও টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো রোহিঙ্গা এখনও ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। ফলে বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ে যায়। রোহিঙ্গা নারী আয়েশা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টিতে কষ্ট, গরমে আরও বেশি। বৃষ্টিতে পানি আটকানো যায় না, উপর থেকে নিচের দিকে পানি নামলে ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তাই রাতে না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়।’ কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি মোহাম্মদ জাবের বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ক্যাম্প হচ্ছে কুতুপালং। এই ক্যাম্পে অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভারি বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ওইসব পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও নেওয়া হয়নি।’ ভারী বৃষ্টিতে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে সেবিষয়ে কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান। তিনি বলেন, ‘যেসব জায়গায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’