ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য: ড. কামাল

ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য: ড. কামাল
ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য: ড. কামাল
ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য: ড. কামাল

 স্বৈরাচারের প্রজা থেকে মুক্ত হতে জনগণকে আহবান জানিয়ে সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীন দেশের মালিক হলো জনগণ। জনগণ মালিক না থাকলে প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের প্রজা থেকে মুক্ত হতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল- জনগণ ক্ষমতার মালিক; তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা আবার মালিক হবো। এই রাষ্ট্র আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনবো।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখনও উপেক্ষিত। সার্বিক উন্নতি, সবার মধ্যে সমতার উন্নয়ন উপেক্ষিত। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান থেকে মানুষ বঞ্চিত। খালি বলা হয় উন্নয়ন, উন্নয়ন... কার উন্নয়ন? সব মানুষের উন্নয়ন না, কতিপয় মানুষের উন্নয়ন! যারা টাকা পুঁজি পাচার করে তাদের উন্নয়ন। কাদের উন্নয়ন? মুষ্টিমেয় মানুষ; যারা আমাদের ভোট থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে, তাদের উন্নয়ন। সেটা উন্নয়ন নয়। আমরা চাই, ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়ন। সেই সত্যিকার উন্নয়নের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

ড. কামাল বলেন, আমরা বাঙালি যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছি তখনই বিজয়ী হয়েছি। এটা মনে রাখবেন। বিজয়কে সামনে রেখে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ইনশাল্লাহ ক্ষমতার মালিক আমরা হব। আশা দিতে চাই, ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য।

তিনি বলেন, আমরা সাত দফা দিয়েছি, এটা আপনাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, আপনারা মনোযোগ সহকারে দেখবেন। দেখার পরে গ্রামে-গ্রামে, ইউনিয়নে-ইউনিয়নে, থানায়-থানায়, উপজেলায়, জেলায় এই ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে হবে।
সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রচিত হচ্ছে শাহজালালের পূণ্যভূমি থেকে।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সংসদ বাতিল করুন।  নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করুন। ইভিএম দেওয়া চলবে না। ডিজিটাল চুরি করবেন? সেটা আর করতে দেওয়া হবে না। সেনা মোতায়েন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র হিসেবে নির্মাণ করা। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আজকে সিলেটের মানুষ যেভাবে শত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে ছুটে এসেছে জনসভায়, তারা প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে চায়। আমি সিলেটের জনগণকে অভিবাদন জানাই।

জনগণের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, আপনারা হাত তুলে দেখান আপনারা এই আন্দোলনে শরিক হয়েছেন, ত্যাগস্বীকার করতে প্রস্তুত আছেন।

উপস্থিত জনতা হাত তোলার পর মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমাদের অধিকারকে ফিরিয়ে আনবো ইনশাল্লাহ।
সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুলজেসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, দেশ ডাকাতের হাতে পড়েছে। জনগণকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকার উস্কানি দেবে, তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে। আরেকবার গায়ে হাত দিলে সবাই রাস্তায় নামব। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, ভোটের লড়াই, সুষ্ঠু নির্বাচনের লড়াই। এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।

সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ৪০টি উপজেলা নিয়ে আধ্যাত্মিক বিভাগ সিলেট। আগামী দিনে অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পূণ্যভূমি সিলেটের এই মাঠ থেকে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় মুরব্বি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বিচার হয়নি। অথচ আমাকে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড! আমাদের দাবি মানেন, যদি না মানেন তবে কিভাবে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে তা আমরা জানি।

তিনি আরো বলেন, সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকারের জন্য আমরা লড়াইয়ে নেমেছি। একদিকে শেখ হাসিনা থাকবে অন্যদিকে সারা দেশ।

সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে সরকার টালমাটাল। উন্নয়নের জোয়ারে সরকারের চোখে ছানি পড়ে গেছে!

তিনি আরো বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর বনানী কবরস্থানে গিয়ে ’৭৫ এর শহীদদের কবর জিয়ারত করে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে চাই। সেখান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। এটা আমার প্রস্তাব।
সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আসা জনতাবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকারের সময়ে দেশে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে। এগুলোর বিচার করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি দুর্নীতির বিচার হবে।

মওদুদ আরো বলেন, স্বৈরাচারী সরকারকে হঠাতেই আজ ঐক্য করতে হয়েছে। সরকারকে সংলাপে আসতে হবে। নয়তো বুঝতে হবে, এই সরকার গণতন্ত্র চায় না। তারা সম্পদ পাচার করেছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশে এখন গণতন্ত্র মৃত, মানবাধিকার-সুশাসন নেই। সরকার বলছে লাখ-লাখ, হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছে। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন?

তিনি আরো বলেন, আমরা রাজপথে নেমেছি, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে ঘরে ফিরে যাব না। সারাদেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে এক হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগকে একঘরে করে দেব।

বুধবার দুপুর ২টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইযুম জালালী পঙ্কী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান।

এছাড়া ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য এবং চার দল থেকে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী।

বুধবার দুপুর ১টার পর থেকে শত শত নেতাকর্মীদের মিছিল একে একে প্রবেশ করতে থাকে রেজিস্ট্রারি মাঠে। এ সময় সমাবেশের মঞ্চে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।