ময়মনসিংহের বিশাল জনসভায় শেখ হাসিনা

আবারও নৌকায় ভোট চাই

আবারও নৌকায় ভোট চাই

নজীব আশরাফ, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়নে ১৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, উপহার নিয়ে এসেছি, নৌকা মার্কায় ভোট চাই, হাত তুলে ওয়াদা করেন ভোট দেবেন। সহযোগিতা করবেন। আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশের দারিদ্র্য যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, তা এই দশ বছরে ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই। আগে যেভাবে ভোট দিয়েছেন, আগামী দিনেও সেভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন, যেন দারিদ্র্যসীমা ৫-৬ ভাগ কমাতে পারি। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি চাই এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন। এদেশের মানুষ দু’বেলা পেট পুরে ভাত খাবে। কেউ গৃহহারা থাকবে না, সবার উন্নয়ন হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে আলাদা শিক্ষাবোর্ড, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও নভোথিয়েটার করার ঘোষণাও দেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। জনসভাটি পরিণত হয় জনস্রোতে। গোটা মাঠ ছাপিয়ে মানুষ রাস্তা ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনেন। এ সময় জাতির জনককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, মানুষ তার আপনজনকে হত্যার বিচার চাইতে পারে, আমাদের সেই বিচার চাওয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে। এই ময়মনসিংহে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর মতো অত্যাচার করেছিল। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে হারানো হয় বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষ মারে, নির্যাতন করে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কোনো নির্যাতন করে না, দেশের উন্নয়ন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যুবসমাজ-তরুণ সমাজই আমাদের শক্তি। আমরা শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন করছি। প্রাইমারি শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৪ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উচ্চবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। যাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে। এর মধ্যে প্রাইমারি শিক্ষার ১ কোটি ৪০ লাখ মা, ওই প্রাইমারি শিশুদের উপবৃত্তি মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি আমরা পৌঁছে দিচ্ছি মায়ের হাসি প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খুন, হত্যা, দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি আর মানিলন্ডারিং এসব ছিল বিএনপির কাজ- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় সরকার ছিল হাওয়া ভবন। ওই হাওয়া ভবনের খাওয়া মেটাতে গিয়ে দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি, সব অর্থপাচার হয়েছে। ২০০৮ সালে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। আর সেই ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকার গঠন করি। ২০০৮ থেকে আজ ২০১৮ প্রায় দশ বছর আমরা আপনাদের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছি। আজকে আমি এই ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা দিয়েছি। এই বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে আপনাদের জন্য আমি উপহার নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ আগেই আমরা সেগুলো উদ্বোধন করেছি।

 আওয়ামী লীগ সরকার প্রযুক্তিখাতে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল। প্রতি উপজেলায় ব্রডব্যান্ড এবং ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেছি। আজকে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ জয় করেছি। আমরা যে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি, আপনারা সেখানে বসে নিজেরা অর্থ উপার্জন করতে পারেন। নিজের দেশে বসে বিদেশে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিয়েছি। আজ সবার হাতে হাতে মোবাইল। এটি বিএনপির সময় ছিল না। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো: ইকরামুল হক টিটু প্রধানমন্ত্রীকে একটি চাবি উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে কবির ভাষায় বলেন, ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই’বলেই প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।

জনসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন কই? এক ঈদ গেলে, বলে আরেক ঈদের পর আন্দোলন। কিন্তু নির্বাচনের আগে তো আর ঈদ নেই। এভাবে চলতে চলতে দশ বছরে ২০ ঈদ গেল। কিন্তু বিএনপির আন্দোলন আর আসে না। এ সময় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মরা গাঙে জোয়ার আসে? আসে না! এ সময় বিএনপি ও গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংলাপ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে, তাদের সাথে আওয়ামী লীগের সংলাপের কোনো কথাই ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার উদারতা দেখিয়ে সংলাপে বসেছেন। এটা তার উদারতার প্রকাশ। আমরা কারও কাছে নতি স্বীকার করিনি, কারও চাপের মুখেও সংলাপে বসিনি, বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। জনসভায় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেটি জহিরুল হক খোকার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম যৌথভাবে জনসভা সঞ্চালনা করেন। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপুমনি, আহম¥দ হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাবু অসীম কুমার উকিল, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: ইকরামুল হক টিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, এড. মোসলেম উদ্দিন এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তসহ ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।