অরিত্রির মৃত্যুর ঘটনায় আমরা বেদনাহত

অরিত্রির মৃত্যুর ঘটনায় আমরা বেদনাহত

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীকে (১৪) আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। অরিত্রি ঘটনার বিচার ও ছয় দফা দাবিতে গতকালও প্রতিষ্ঠানটির সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। এ ঘটনায় পরীক্ষাও বর্জন করে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা। ক্লাসে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে গতকাল দুপুরে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান ভিকারুন নেসা নুন স্কুলের অধ্যক্ষসহ অভিযুক্ত ৩ শিক্ষককে বরখাস্ত, তাদের এমপিও বাতিল এবং বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। শিক্ষকের কাছে বাবার অপমান সইতে না পেরে গত সোমবার অরিত্রি আত্মহনন করে। তার আত্মহত্যার অঘটন আমাদের যেমন বেদনাহত, তেমনই বিক্ষুব্ধ করেছে। তার শিক্ষকরা যদি আরেকটুকু মানবিক হতেন তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না নিশ্চয়ই।

গত রোববার ক্লাস পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল করেছে এ অভিযোগে মেয়েটির পরীক্ষা বাতিল করে তার বাবা-মাকে নিয়ে পরদিন স্কুলে আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন সোমবার তারা স্কুলে গেলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দুজনই ছাত্রীর সামনেই তার বাবা মাকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং পরদিন আবার স্কুলে এসে ছাত্রীর টিসি নিয়ে যেতে বলেন। স্বচক্ষে বাবা-মা’র এই হেনস্থা ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি বাসায় গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। শিক্ষা হবে আনন্দের মধ্য দিয়ে। এটাই শিক্ষার আধুনিক কৌশল। কিন্তু আমাদের এখানে এর উল্টো ব্যবস্থা চলছে। শিক্ষার্থীদের নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক চাপে রাখা হয়। আর এর ফলে অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। শিক্ষককে অবশ্যই মানবিক হতে হবে। ভিকারুননিসার প্রধান শিক্ষক, অরিত্রি এবং তার অভিভাবকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটল এর দায় থেকে সংশ্লিষ্টরা মুক্তি পেতে পারেন না বলেই মনে করি।