শরীয়তপুরে পুলিশের থাপ্পড়ে কলেজছাত্র নিহত

 শরীয়তপুরে পুলিশের থাপ্পড়ে কলেজছাত্র নিহত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ‘পুলিশের থাপ্পড়ে’ এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিহত পাভেল শেখ উপজেলার পূর্বকাজিকান্দি গ্রামের আবদুর রউফ শেখের ছেলে। শেখ চান্দেরচর নূরুল আমিন কলেজের ছাত্র তিনি। পাভেলের চাচাত ভাই শান্ত শেখ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমি ও পাভেল আনন্দবাজারে হৃদয় নামে আমাদের এক বন্ধুর কাছে পাসপোর্ট আনতে যাই। পথে পুলিশ আমাদের শরীর তল্লাশি করে। একপর্যায়ে পাভেলের পকেটে হাত দিতে গেলে সে নিষেধ করে। পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওকে চড়-থাপ্পড় মারে। এতে তার কান দিয়ে রক্ত ঝরে। সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ পাভেলের মা বলেন, ‘আমার ভাল ছেলে বাড়ি থেকে আনন্দবাজার গেলে পুলিশ তাকে মারধর করে।’ এ বিষয়ে পাভেলের বাবা আবদুর রউফ শেখ কোনো কথা বলতে চাননি। এলাকার জাহাঙ্গীর কাজী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সত্য কথা বলা যাবে না। আর এর বিচার হবে না। তাই এ বিয়য়ে কিছু বলব না।’ অভিযোগ বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি টহলে গেলে আনন্দবাজার নামক স্থানে দুই যুবককে হঠাৎ গলির মধ্যে চলে যেতে দেখে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহ করে পুলিশ পাঠাই। পুলিশ তাদের শরীর তল্লাশি করতে গেলে পাভেল পকেটে হাত দিতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হলে আমি নিজে সেখানে যাই। “গিয়ে দেখি পাভেল খিচুনি দিয়ে পড়ে গেল। একটু পরে ওর বাবা আসলে তার সহায়তায় আমরা পাশের ওষুধের দোকানে নিয়ে যাই। তার বাবা তাকে মৃগী রোগী বলে চামড়ার জুতা নাকের সামনে ধরেন। এতেও তার কোনো পরিবর্তন না দেখে তাকে জাজিরা হাসপাতালে নিয়ে যাই।  সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা তাকে কোনো প্রকার মারধর বা চড়-থাপ্পড় দেইনি।’