ফলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার রোধে পাঁচ দফা সুপারিশ

 ফলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার রোধে পাঁচ দফা সুপারিশ

বিগত  কিছুদিন থেকেই ‘ফল পাকাতে রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল কোর্ট তৎপরতা নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে মতামত রয়েছে। অপরদিকে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আনুকল্য বা সহায়তারও অভাব রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রেক্ষাপটে আলোচনা ও সুপারিশ তুলে ধরে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায়, রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তন, সেগুনবাগিচায় নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন  বিসেফ ফাইন্ডেশন এর আয়োজনে এক নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক। বক্তব্য রাখেন এফএও ফুড সেফটি প্রজেক্ট এর সিনিয়র ন্যাশনাল এ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডাঃ শাহ মনির হোসেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ নীলুফার নাহার; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান; বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল মতিন,  এফএও এর ন্যাশনাল টিম লিডার একেএম নুরুল আফসার; কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক এর চেয়ারম্যান মহিদুল হক খান, শিসউক এর নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, মীনা বাজার এর সিইও শাহীন খাঁন প্রমুখ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিসেফ ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক ডঃ সৈয়দ মনোয়ার হোসেন। সভায় সকলের আলোচনার প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে এবং ফলে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার রোধে বিভন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- কোনো অবস্থায় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকানো ফল উৎপাদন এলাকা থেকে বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করে বাজারজাত করা যাবে না। প্রয়োজনে সড়ক, নৌ ও রেলপথে নজরদারি বাড়াতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ফলের উৎপাদন, সঠিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ কর্মসূচি নিতে হবে। এর পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরকে রাসায়নিক দ্রব্যাদি দিয়ে ফল পাকানোর ক্ষতিকর প্রভাব ও আইন সম্বন্ধে অবহিত করতে হবে।

নিরাপদ ফল ও খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং মনিটিরিং এর জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি করেতে হবে। উৎপাদক পর্যায়ে ক্ষুদ্র কৃষকদের এই অর্থায়নের আওতায় আনতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ ফল নিশ্চত করার জন্য বাজার সংলঘœ এলাকায় গ্যাসীয় চেম্বার স্থাপনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একটি কার্যকর সমন্বয়ের জন্য কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও নিারপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করে এ জাতীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বয় কমিটি গঠন করতে হবে, যাতে নিরাপদ খাদ্যের সাথে জড়িত উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা যায়। খবর বিজ্ঞপ্তির।