তরমুজে ভরে গেছে বাজার প্রভাব নেই খুচরায়

 তরমুজে ভরে গেছে বাজার প্রভাব নেই খুচরায়

বরিশাল প্রতিনিধি: গরমের রসালো ফল তরমুজে ছেয়ে গেছে গোটা বরিশাল। দিন যতো যাচ্ছে বরিশালের পাইকার ও খুচরা বাজারে তরমুজের আমদানি ততো বাড়ছে। তবে আমদানির প্রভাবে পাইকারি বাজরে দর কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

এদিকে প্রতিবছরের মতো বরিশালের পোর্টরোডের একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি মাছের বদলে তরমুজের আড়তে পরিণতো হয়েছে। বর্তমান সময়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দখিনের জনপদের মাছের আড়ৎ কিংবা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে তেমন একটা মাছের দেখা মিলছে না। তাই ইলিশ নির্ভর বরিশালের পোর্টরোডের একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি বেশিরভাগ সময়ই থাকছে মাছবিহীন। এ কারণে এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতিবছরই মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য তরমুজের পেছনে টাকা খাটান। তাই আড়তগুলোতে এখন মাছের বদল চলছে তরমুজের বেচা-বিক্রি।

দিন যতো যাচ্ছে পাইকারি এ বাজারে তরমুজের আমদানি ততো বাড়ছে, শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের শ্রমিক জামাল জানান, কয়েক বছর আগেও ছিলো যখন নিষেধাজ্ঞার সময় বসে অলস সময় পার করতে হতো, জমানো টাকা ভেঙে নয়তো ধার দেনা করে চলতে হতো, এখন দিন যতো যাচ্ছে দখিনের জনপদে তরমুজের চাষ ততো বাড়ছে। ফলে বাজারগুলোতে তরমুজের আমদানিও বাড়ছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চাষী ইলিয়াস বলেন, বছরে বছরে তরমুজের চাষির সংখ্যা বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে আবাদের পরিমাণ। কিন্তু এ বছর ফলন বেশি হলেও প্রাকৃতিক কারণে তরমুজের আকার-আকৃতি তেমন একটি ভালো হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১০/১২ দিন আগে যখন বাজারে প্রথম তরমুজ আসে তখন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে প্রতিশ’ তরমুজ বিক্রি হয়েছে। আর এখন বাজারে প্রচুর তরমুজের আমদানি হওয়ায় সেই দর কমে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে গেছে। সামনে দর আরো কমবে জানিয়ে তিনি বলেন, এরকম হতে থাকলে তরমুজ চাষিদের লাভের থেকে লোকসানের মুখ দেখতে হতে পারে। তবে খুচরা বাজারের ক্রেতা হানিফ হাওলাদার বলেন, গত সপ্তাহে যে তরমুজ কিনেছেন ৮০ টাকায় সেই তরমুজ আজ কিনছেন ১২০ টাকায়।

পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরা বাজারে এর বিপরীত অবস্থা চলছে। পোর্টরোডের আড়তদার সুমন মোল্লা জানান, দেরিতে হলেও পোর্টরোডের ফলের আড়ৎ ও মাছের আড়তগুলো ঘিরে তরমুজের বাজারে জমজমাটভাব দেখা দিয়েছে। চাষি, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আনাগোনায় কর্মব্যস্ততায় দিন কাটছে। আমদানি বাড়লে দাম কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বাজারে বর্তমানে বিট ফ্যামিলি, জাম্বু জাগুয়া, ড্রাগন, ওয়ার্ল্ডকুইন নামক তরমুজের সংখ্যাই বেশি আসছে। আড়তদার ভরৎ সাহা জানান, প্রতিবছর এমন সময়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, টুঙ্গিবাড়িয়া, বুখাইনগর, ভোলার চরফ্যাশন, চরকাজী, লালমোহন, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙাবালিসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর তরমুজ আসে।

গত বছর এমন সময়ে শিলাসহ বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তরমুজের আমদানি অনেকটা কমে গিয়েছিলো। তবে এ বছর আমদানিটা অনেক ভালো। পাশাপাশি আকার-আকৃতি, স্বাদেও মানটা বেশ ভালোই রয়েছে। বরিশাল নগরের পোর্টরোড ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার একমাত্র সচল ও বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির বেশিরভাগ আড়তের সামনের জায়গা মাছের বদলে তরমুজের দখলে চলে গেছে। যেখানে প্রতিদিন ছোট-বড় বহু নৌযানে মাছ আসতো সেখানে এখন প্রতিদিন ফিসিংবোটসহ বিভিন্ন নৌ-যানে বেপারি ও চাষিরা নিয়ে আসছেন তরমুজ। সেই তরমুজ আড়তদারদের কাছে থেকে পাইকাররা সড়ক ও নৌ-পথে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। পাশাপাশি বরিশালের স্থানীয় খুচরা বাজারেও চলে যাচ্ছে এসব তরমুজ।