যমুনার ভাঙন ঠেকাতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

এবার বাঁধ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ দাবি

 এবার বাঁধ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ দাবি

নারায়ন মালাকার, এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান রাজনৈতিক সংলাপে এবার যমুনার ভাঙনকবলিত সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে ভেকা পাঁচিল পর্যন্ত  অবশিষ্ট ৬ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় তার সাথে সংলাপ দাবি করেছে এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার সকালে থানার ঘাটাবাড়ি ও আড়কান্দিতে নদী তীর জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে এই দাবি জানান তারা। জানা যায়, গত প্রায় ১০ বছর ধরে এনায়েতপুর খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যাল     হতে দক্ষিণে ভেকা-পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। দীর্ঘদিন এলাকার ভাঙন রোধে কাজের ব্যাপারে শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছেন এলাকার এমপি-মন্ত্রী, নেতা ও আমলারা। কিন্তু এতো দিনেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শুধু বিলীন হয়েছে অন্তত ৩ হাজার ঘর-বাড়ি, অসংখ্য আবাদী জমি। এরা সবাই নিঃস্ব ও ছন্নছাড়া। এখন বাকি  যে এলাকাটুকু রয়েছে তারা শুধু ভাঙন আতংকে হাহাকার করছে। অনেকেই সব কিছু হারিয়ে নদীর পাড়েই বসবাস করছে। নদীতে পানি কমতে থাকায় গত ২ সপ্তাহ ধরে ভাঙনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 কিন্তু অতীতের মতই প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের রক্ষার দাবিতে এলাকার ১০ গ্রামের মানুষ গতকাল শনিবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ আসতে শুরু করে এতে। বাদ যায়নি গায়ের বধূরাও। এরপর শুরু হয় এই কর্মসূচি। কর্মসূচিতে স্থানীয় সমাজ সেবক আব্দুল মতিন ব্যাপারীর সভাপতিত্বে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাদ রহমান শাহজাহান, ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, মুল্লুক চাঁদ মিয়া, হাজী সুলতান মাহমুদ, এনায়েতপুর থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি ফজলুল হক ডনু, ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন, শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুস ছালাম, হাবিব সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, আমাদের সবাই আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু ১০ বছরেও বাঁধ হয়নি। এটা যদি কাজীপুর বা সিরাজগঞ্জ সদর হতো তাহলে ধস নামামাত্র প্রতিকারে ব্যবস্থা শুরু হয়ে যেত। আমরা সাধারণ মানুষ তাই কারও নজর নেই। আমরা এখন যাব কোথায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাঁধ দিয়ে আমাদের বাঁচান। তারা দাবি করে আরও বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সংলাপ করছেন। আমরাও তার সাথে সংলাপ করতে চাই। আমাদের সময় দিন। আমরা আপনার সাথে কথা বলবো। কেউ কথা রাখেনি। আপনিই আমাদের শেষ আশ্রয়। নদীর তীর সংরক্ষণে বাঁধ দিন, আমাদের জীবন বাঁচান।