নামাজে আওয়াজ করে সানা পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?
প্রশ্ন: নামাজে তাকবিরে তাহরিমার পর সানা নিম্নস্বরে পড়তে হয় বলে জানি। কেউ যদি ভুলবশত আওয়াজ করে সানা পড়ে, তাহলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?
উত্তর: নামাজে সানা অনুচ্চস্বরে পড়া সুন্নত, তাই ইচ্ছাকৃত সানা জোরে পড়া যাবে না। কিন্তু কেউ যদি ভুল করে সানা জোরে পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। বরং সাহু সিজদা ছাড়াই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।
নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমার পর সানা পড়া সুন্নতে মুআক্কাদা। তাকবিরে তাহরিমার পর হাত বেঁধেই প্রথম কাজ হলো সানা পড়া। একা নামাজ আদায়কারী, ইমাম ও মুক্তাদি সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
মুক্তাদি যদি ইমাম সানা পড়ে ফেলার পর নামাজে শরিক হন এবং ইমাম উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়তে থাকেন, তাহলে মুক্তাদি সানা না পড়ে ইমামের তিলাওয়াত শুনবেন। ইমাম নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে থাকলে মুক্তাদি নামাজে শরিক হয়ে সানা পড়তে পারেন।
কারণ ইমাম যখন কোরআন তিলাওয়াত করেন, তখন ইমামের তিলাওয়াত শোনা মুক্তাদিদের ওপর ফরজ। আল্লাহ বলেছেন, যখন কোরআন পড়া হয়, তখন চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনো, হয়তো তোমাদের দয়া করা হবে। (সুরা আরাফ: ২০৪)
ইমাম রুকুতে চলে যাওয়ার পর কেউ জামাতে শরিক হলেও সানা না পড়ে ইমামকে অনুসরণ করে রুকুতে চলে যেতে হবে। অনেকে এ সময় সানা পড়তে গিয়ে ওই রাকাতই ছেড়ে দেয়, এটা ঠিক নয়।
আরও পড়ুনঅর্থ ও উচ্চারণসহ সানা
سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনার নাম অতি বরকতময়। আপনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।
(সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩)
মন্তব্য করুন









