কুড়িগ্রাম পৌর টাউনহলের কেয়ারটেকার খুন

কুড়িগ্রাম পৌর টাউনহলের কেয়ারটেকার খুন

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হল মিলনায়তনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস অনুষ্ঠান শেষে এক যুবকের ছুরিঘাতে ওই হলের কেয়ারটেকার খুন হয়েছেন। এ ঘটনার সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন স্ত্রী।

ঘটনাস্থল থেকে এক যুবককে আটক করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে টাউন হল মিলনায়তন চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ছয় আনিপাড়ার বাসিন্দা মনসুর আলী (৫৫) এবং তার আহত স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৪৮)।

আটককৃত ব্যক্তি কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার সরদারপাড়ার বাসিন্দা জুলহাস আহমেদের পুত্র শাহনেওয়াজ ওরফে সানি (৩২)। নিহত মনসুর আলী কুড়িগ্রাম পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কর্মচারী হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে কলেজ মোড়স্থ পৌর মিলনায়তনের কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পাল করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রাম শহরের কলেজ মোড়স্থ পৌর টাউন হল মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠান চলছিল। আলোচনা সভা শেষ হলে সানি টাউন হল মিলনায়তন চত্বর থেকে হল রুমের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিষেধ করেন নিহত কেয়ারটেকার মনসুর আলী।

পরে অনুষ্ঠান শেষ হলে অতিথিসহ আগত মানুষজন চলে যান। দুপুর হওয়ায় মনসুর আলীর স্ত্রী দুপুরের খাবার নিয়ে সেখানে যান। এসময় সানি তাদের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পরে স্বামী-স্ত্রীর চিৎকার শুনে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের স্টাফরা।

পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে সানিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে উপস্থিত ব্যক্তিরা। কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নূরে নেওয়াজ বলেন, দু’জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলেও এরমধ্যে একজন পথিমধ্যে মারা যান।

অপর জনকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় সানি নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার পর কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরির্দশনে যান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ন্না দেবনাথ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ কামাল হোসেন, কুড়িগ্রাম পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীগনসহ বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় জেলা প্রশাসক নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানান ও ঘটনার ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/190226