দিনভর অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করার পর মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রীদের বিক্ষোভ
রাজধানীর সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ এলাকায় মধ্যরাতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস গেটের বাইরের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১২টায় সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে কলেজটির বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।
পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।
নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপরও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান ছাত্রীরা। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাঁকে বের করে আনে। পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ দুই গাড়ি পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতর এনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করিয়েছেন। তাতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলার মধ্যে রাত পৌনে একটার দিকে চার দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো শুক্রবার ক্যাম্পাসে সরকারি কোনো পরীক্ষা হবে না, ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে, অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী এই হামলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/190035