বগুড়ায় শজিমেকে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন ও কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর ঘোষণা

বগুড়ায় শজিমেকে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন ও কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে কিডনি ও হৃদরোগীদের সেবার পরিধি বাড়াতে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, ভাস্কুলার সার্জারি এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সার্জারি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এজন্য তিনি হাপাতালের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)  বগুড়ার শজিমেকের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি, আমন্ত্রিত অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানকে স্থায়ীভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপান্তর করার দাবি জানান।

সভায় মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শজিমেক হাসপাতালে কিডনি রোগীদের সেবার মান বাড়াতে নতুন করে আরও ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিদ্যমান ব্যবস্থাসহ মোট ৫০টি শয্যা নিয়ে এখানে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নামমাত্র খরচে কিডনি রোগীরা নিয়মিত ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্যাথলজি বিভাগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পরিধি বাড়াতে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের একটি আধুনিক ‘মাল্টি-হেড টিচিং মাইক্রোস্কোপ’ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। মন্ত্রী আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ সেবা চালুর কথা জানিয়ে বলেন পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সার্জারিও চালুর পরিকল্পনার রয়েছে। এর ফলে জটিল হৃদরোগের অপারেশনের জন্য মানুষকে আর কষ্ট করে রাজধানীমুখী হতে হবে না।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকটে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকরা শুধু কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সম্পদ নন, তারা জাতির সম্পদ। চিকিৎসকদের জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করতে হবে।” রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরও মানবিক, যত্নবান ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বড় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫টি স্থানে এ কার্যক্রম রয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্য খাতের অবনতি হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ খাতকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বিস্তারিত বক্তব্য দেন শজিমেকের সাবেক অধ্যক্ষ, প্রকল্প পরিচালক ও বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি শজিমেক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জন ও চিকিৎসা খাতের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর তার বক্তব্যে আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়েছিল অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে। আজ শজিমেক ৩৫ বছর পার করেছে এবং এর সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। তবে সময়ের দাবিতে এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে এবং চিকিৎসা শিক্ষার মান বাড়াতে শজিমেককে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি গভীর দেশপ্রেম ও মানবিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও শজিমেক অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদির বিটু শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি করেন। এই দাবিকে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, উত্তরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শজিমেকের ভূমিকা অতুলনীয়। একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলে এই অঞ্চলের চিকিৎসা ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, কলেজের অধ্যক্ষ ও অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদুল হক তরফদার। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, শজিমেকের সাবেক পরিচালক ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, ড্যাব বগুড়ার সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহজাহান আলী, বিএমএ বগুড়ার আহবায়ক ডা. আজফারুল হাবীব রোজ, বিএমএ বগুড়ার সদস্য সচিব ডা. এমএ ওয়াহেদ, শজিমেকের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. জহুরুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. জহুরুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. সারোয়ার হোসেন, ডা. আনিছুর রহমান, ডা. মোজম্মেল হক।

শেষে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় অবদান রাখার জন্য শজিমেকের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/190012