রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আগুনে পুড়ল বসতঘর, গরু-ছাগল 

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আগুনে পুড়ল বসতঘর, গরু-ছাগল 

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আগুনে দুই ভাইয়ের চারটি বসতঘর, একটি গরু ও তিনটি ছাগল পুড়ে গেছে। এছাড়া পুড়ে গেছে জমি কেনার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা এবং মেয়ের বিয়েতে দেওয়া প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার। 

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস মাঠের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এতে তাদের প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে আগুনের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির বাড়ি পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। এ সময় তিনি তাদের মধ্যে শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন-ওই এলাকার অশোক চন্দ্র রায় (৫০) ও তার ছোট ভাই নরেশ চন্দ্র রায়। আগুনে অশোকের দুইটি ঘর এবং নরেশের একটি ঘর পুড়ে যায়। এসময় ঘরে থাকা একটি গরু ও তিনটি ছাগলও মারা যায়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরের পাশে পোড়া টিন দিয়ে তৈরি একটি ছোট চালাঘরে রাত কাটিয়েছেন অশোক ও তার স্ত্রী চানু বালা। বসতঘরের জায়গায় পড়ে আছে পোড়া টিন, বাঁশ ও কাঠের অংশ। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন চানু বালা। তিনি বলেন, এতগুলা ঋণ ক্যামন করি পরিশোধ করিমো? মোর বেটির এই স্বর্ণ ক্যামন করি দিম? সব শেষ হয়া গেল। অশোক চন্দ্র রায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারকেল ও খেজুরগাছের ডাল কাটেন। বিভিন্ন বাগানে কীটনাশক প্রয়োগের কাজ করেও সংসার চালান তিনি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছে। ছেলে জীবিকার জন্য ঢাকায় থাকেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া দুই শতক জমিতে তাদের বসতবাড়ি ছিল।

অশোক চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাপের কাছ থেকে দুই শতক জমি পাইছি। এইটুকু জমির ওপর কষ্ট করে বাড়ি করছি। ছেলে ঢাকায় থাকে। ছেলে বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে। এ জন্য ৫০ হাজার টাকা কিস্তিতে ঋণ নিয়েছি। আর এলাকায় ঘুরে কাজ-কাম করে কিছু টাকা জমাইছিলাম। ভাবছিলাম, কিছু জমি কিনে বাড়ি করব, ছেলেকে বিয়ে দেব। কিন্তু আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, মেয়ের বিয়েতে ধারদেনা করে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়েছিলেন। মেয়ের সন্তান হওয়ার সময় সেই স্বর্ণালংকার তার স্ত্রীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন মেয়ে। আগুনে সেগুলোও পুড়ে গেছে।

গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এতে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের যাওয়ার আগে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189949