জয়পুরহাটের বাগজানা ও ধরঞ্জীতে শীতের শুরুতে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা
বাগজানা (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর শীতের শুরু মানেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহের ব্যস্ততা। পাঁচবিবি উপজেলাজুড়ে এখন খেজুর গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
উপজেলার অন্তত অর্ধশত জায়গায় রাজশাহী ও নাটোর জেলার তেবাড়িয়া থেকে আসা মৌসুমী গাছিরা খেজুর পাতা দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে রস সংগ্রহ করছেন। বিকেলে গাছে গাছে মাটির পাতিল (ভাঁড়) টাঙানো আর কাক ডাকা ভোরে গাছিদের রস সংগ্রহের দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। পরে ড্রামের তৈরি পাত্রে রস ঢেলে জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু খেজুর গুড়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাগজানা ও ধরঞ্জী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অস্থায়ী বসতি গড়েছেন গাছিরা। রাজশাহী জেলার বাঘা পৌরসভার দক্ষিণ মিলিকপাড়া মহল্লা থেকে গুড় তৈরির জন্য এসেছেন হামিদুল ইসলামসহ ৩ জন গাছি। তারা কোতোয়ালীবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খেজুর পাতা দিয়ে থাকার ঘর তৈরি করেছেন। পাশেই রস জ্বাল দেওয়ার জন্য দুটি মাটির চুলা বানিয়েছেন।
গাছি হামিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতে আমরা বিভিন্ন এলাকায় রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির জন্য যাই। গতবার আমরা এখানে এসেছিলাম, এবারও এসেছি। রাস্তার ধারে এবং ব্যক্তি মালিকানায় ১৬০টি খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করেছি। এখন শীত কম তাই রস কম হচ্ছে।
শীত যত তীব্র হবে গাছে রস তত বেশি হবে। তখন খেজুর রস থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কেজি করে গুড় তৈরি করা সম্ভব হবে। উচাই গ্রামে রসের গুড় তৈরির জন্য আসা একই উপজেলার হারেছ উদ্দিন বলেন, প্রতি কেজি গুড় তৈরি করতে প্রায় ৭ থেকে ৮ কেজি রসের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে একটি গাছ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যাবে।
জ্বালানি ও শ্রমিক খরচ বাদে মৌসুমে মোটা অংকের টাকা রোজগার করা যায়। তিনিও এবার ১২০টি গাছ রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করেছেন। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা-পায়েস সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এই গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেকে নিজ চোখে গুড় তৈরি করা দেখে গাছিদের কাছ থেকেই গুড় সংগ্রহ করেন। গাছিরা এসব গুড় বিভিন্ন হাট-বাজার ও দোকানে পাইকারি হিসেবে বিক্রি করেন।
বর্তমানে প্রতি কেজি গুড় ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কোতোয়ালীবাগ গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, গাছিরা আমাদের গ্রামে আসায় আমরা একদম খাঁটি ও ভেজালমুক্ত গুড় পাচ্ছি। বাজার থেকে কেনা গুড়ে অনেক সময় চিনি মেশানো থাকে, কিন্তু এখানে নিজের চোখের সামনে গুড় তৈরি হতে দেখে নিতে পারছি।
শীতের পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা এই গুড় দিয়ে। প্রতিবছর খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করলেও গাছিরা জানান, দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের পেশা হুমকির মুখে পড়ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189914