বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সুধী সমাবেশে ওয়ার্ড পুনবির্ন্যাসসহ একাধিক দাবি তুলে ধরলেন বক্তারা

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সুধী সমাবেশে ওয়ার্ড পুনবির্ন্যাসসহ একাধিক দাবি তুলে ধরলেন বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার : যানজটমুক্ত, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত বগুড়া মহানগর গড়তে নগরবাসীর মতামত ও পরামর্শ চেয়ে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তরা বলেছেন, বর্তমান মহানগরের মূল সমস্যা ওয়ার্ড জটিলতা। তাই বর্ধিত এলাকাসহ ২১টি ওয়ার্ডকে জনসংখ্যা ও ভোটারের অনুপাতে পুনর্বিন্যাস করতে পারলেই আধুনিক মহানগর গড়ে তোলা অনেকাংশেই সহজ হবে।

পাশাপাশি যানজট ও মাদকমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন মহানগর গড়তে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নগরবাসীর সচেতনতার ওপর জোর দেন বক্তারা। তারা বলছেন, নগর উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নাগরিক সচেতনতা, জবাবদিহি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নিশ্চিত সুশাসন।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে ‘আপনার মহানগরকে আপনি কেমন দেখতে চান?’ শীর্ষক সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন-বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হাই, বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক এবং মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।

আরও বক্তব্য রাখেন, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়ার সভাপতি প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন সৈকত, লাইট হাউজের প্রধান নির্বাহী হারুন অর রশিদসহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তরা আধুনিক ও পরিকল্পিত মহানগর গড়ে তুলতে-নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত, ফুটপাত ও সড়ক প্রশস্তকরণ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নো-পার্কিং জোন চালু, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠকে স্পোর্টস জোন হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।

সমাবেশে যোগ দেওয়া ২১টি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলররা তাদের ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ও ভোটার অনুপাতের সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর ওয়ার্ডগুলো পুনর্বিন্যাস করা এখন সময়ের দাবি। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ছাড়া সমউন্নয়ন সম্ভব নয়। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য।

বক্তারা পরিকল্পিত ও সবুজ নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। নগর উন্নয়নের কাজ বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন জরুরি। খেলার মাঠের সংকট তুলে ধরে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ নির্মাণ, বিদ্যমান মাঠ সংস্কার এবং ইনডোর গেমসের ব্যবস্থারাও দাবি জানান বক্তারা।

বগুড়ার নগরায়ণে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আহবান জানান তারা। নগরীতে মাদক প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি আধুনিক শহরগুলোর মতো রাতে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দিনের বেলা খুবই অস্বস্থ্যকর ও খোলাভাবে ময়লা অপসারণ করা হয়।

এতে যে রাস্তা দিয়ে ময়লা নিয়ে যাওয়া হয়, তাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বক্তারা বলেন, বগুড়া মহানগরের ময়লা পানি কোথায় ফেলা হবে এ ব্যাপারে সিটি কর্তৃপক্ষ কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।  সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, চাঁদনী বাজারসহ ফতেহ আলী বাজার মোড়ের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি বড়গোলা ব্যাংক এরিয়া রাস্তাজুড়ে মোটরসাইকেলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দখল করে যে গাড়ি পাকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাতমাথাকে অবৈধ অটোরিকশা মুক্ত করতে হবে। সাতমাথাকে কেন্দ্র করে যেভাবে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে তা ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি বগুড়া ঢাকা বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে শহরের বাইরে এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে যানজটের দায়ী করে তাদের নিজস্ব পাকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধ্য করার জোর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি বলেন, বগুড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় দিতে হবে। বগুড়া মহানগরের জন্য ড্যাম্পিং স্টেশন অতিজরুরি, দ্রুতই এর ব্যবস্থা করা হবে। ওয়ার্ড বিন্যাসে ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোটার অনুপাতে সমউন্নয়নের জন্য ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জরুরি।

উন্নয়ন বৈষম্য দূরতে অবশ্যই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করতে হবে। যানজট নিরসনের ব্যাপারে তিনি বলেন, চারমাথা থেকে সেউজগাড়ী পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক করা হবে। এছাড়াও নূরানী মোড় থেকে নামাজগড়, দত্তবাড়ী হয়ে চেলোপাড়ার মধ্য দিয়ে ফোর লেন সড়ক বউবাজার পর্যন্ত যাবে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে স্টাফ কোয়াটার থেকে দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক পর্যন্ত ফোর লেন অথবা দুই লেনের রাস্তাসহ নদীর দুই পাশ দিয়ে বনানী টু মাটিডালী রাস্তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান হতে বগুড়াবাসীকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189909