টেকনাফের পাহাড়ে পৃথক স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ২

টেকনাফের পাহাড়ে পৃথক স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ২

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে নিয়ে ব্যাপক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়া টিলার পশ্চিম পাশ থেকে একজনের এবং দুপুরে উলুচামরী-লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগান থেকে অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা  সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাতটার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে পশ্চিম পানখালী এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় এক কৃষক তাদের পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। এ সময় আহতদের মধ্যে মোক্তার আহমদ (৪০) কিছুক্ষণ পর মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ও আহত দুজনকে উদ্ধার করে।

নিহত মোক্তার আহমদ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। আহত দুজন হলেন তুলাতলী এলাকার আবুল হোসনের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩৫) ও আমির হোসনের ছেলে আলী আহমদ (২৬)।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুর একটার দিকে হ্নীলার উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগানে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তাকে ওই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ব্যক্তি আলী আকবর বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আহত ইলিয়াছের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

ইলিয়াছের ভাষ্য মতে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান তাদের চারজনকে বিচারের কথা বলে সোমবার রাতে হ্নীলার একটি দলের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে মোক্তার আহমদের মৃত্যু হয়। অন্যরাও গুরুতর আহত হন। তার দাবি, ওই ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ ছিলেন। মাদকের চালানটির মালিক হ্নীলার এক মাদক কারবারি। তবে তিনি মাদক কারবারীর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি স্থান থেকে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ববিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189833