সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, রাজীব পরিবহন বাস বন্ধের দাবি
ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসচাপায় নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম (১৮) নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাস বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হচ্ছেন অনেকে। গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ নগরের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসচাপায় নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম নিহত হন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রোববার আমাদের বন্ধু জাকিউল মারা গেছেন। রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলবে।
অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকেন। অবরোধে আটকে পড়া কয়েকজন যাত্রী জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।